ইনসেনটিভ দিয়ে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব-প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক চেয়ারম্যান

 

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়- জনসংখ্যা, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব আর দারিদ্র্যকে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে বলেছেন, এতো সমস্যার পরও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।

এনআরবি বিজনেস নেটওয়ার্ক আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়ে প্রবাসীরা দেশের সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তাই সরকারও প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখছেন।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ বাংকের এমডি ও সিইও সিএম কয়েস সামি বলেন, এই ব্যাংকটি একটি ইউনিক ও  ব্যতিক্রমী ব্যাংক। তিনি বলেন, প্রবাসীদের ইনসেনটিভ দিয়ে আরো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সিটির জ্যামাইকার হিলসাইড রয়্যাল চায়নিজ রেষ্টুরেন্টে বৃহস্পতিবার এ  মতবিনিময় সভা ও ইফতার পার্টিতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের অন্যতম পরিচালক মোশাররফ হোসেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফর দি রাইটস অব বাংলাদেশি ইমিগ্রান্টস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক, এনবিআর বিজনেস নেটওয়ার্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান ও অপর পরিচালক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনটির পরিচালক আনিসুল কবীর জাসীর।

সভায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদক, সাংবাদিক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের বক্তব্য পর্ব শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে কম্যুনিটি নেতৃবৃন্দ প্রবাসীদের কল্যাণে ঢাকায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা, জমি-জমা ও প্রবাসীদের প্লট পাওয়া না পাওয়া ও অর্থ ফেরৎ পেতে সৃষ্ট সমস্যা, দ্বৈত-নাগরিকত্ব বিবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং প্রবাসী মন্ত্রণালয় ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সভায় ড. জাফর আহমেদ খান ও সিএম কয়েস সামি তাদের বক্তব্যের শুরুতে পরলোকগত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা কঠিন কিছু নয়। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থেই দেশ এগিয়ে চলেছে। তাই প্রবাসীদের ইনসেনটিভ দিতে পারলে দেশ আরো শক্তিশালী হবে।

সরকার এসব বিষয় চিন্তা-ভাবনা করছে এবং উদ্যোগও  নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, লিবিয়ার যুদ্ধকালীন সময়ে সে দেশ থেকে ফেরত আসা ৩৬ হাজার বাংলাদেশিকে ৫০ হাজার টাকা করে সাহায্য প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সঙ্গে প্রবাসী মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক রয়েছে।

প্রবাসীদের সুবিধার্থে এই ব্যাংককে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।
সিএম কয়েস সামি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। এই ব্যাংক প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করছে। তিনি বলেন, সুদ না দিয়ে ঋণ দিয়ে দেশে ফেরত অনেক প্রবাসীকে সহযোগিতা করছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় অনেক ক্ষেত্রে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সেই সঙ্গে গ্রামে ব্যবসা করার জন্য প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এই ব্যাংকে প্রবাসীদের শেয়ার ক্রয়েরও সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের মাধ্যমে গত বছর ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী অর্থ দেশে আসায় বিশ্ববাজারের মন্দা অর্থনীতির ঝড় বাংলাদেশকে স্পর্শ করতে পারেনি।

প্রশ্নোত্তকর পর্বে ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, পরিকল্পনা করা যত সহজ, তা বাস্তবায়ন করা তত সহজ নয়। তিনি প্রবাসীদের সমস্যার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রবাসীদের কল্যাণে গৃহীত সরকারের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শিব্বীর আহমেদ : প্রবাসীদের একশত ভাগ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার প্রবাসী কল্যান ব্যাংক গঠন করেছে বলে উল্লেখ করলেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ খান।
গত ২৬ জুলাই ওয়াশিংটনের অদূরে  ট্রাইষ্টেট ওয়াশিয়টনে বসবাসরত প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীরা এই ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ, বিদেশে যেতে অর্থের সংস্থানসহ নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সিএম কায়েস সামী এবং ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য রাইটস অব বাংলাদেশি ইমিগ্রান্টস কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সাইদ সাইফুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশকে একটি রাইজিং টাইগার হিসেবে উল্লেখ করে  জাফর আহমেদ খান বলেন, বৈধ পথে প্রেরিত রেমিট্যান্সের হিসাবে বর্তমানে প্রবাসীরা বাংলাদেশের জিডিপিতে ১৩ শতাংশ কন্ট্রিবিউশন করছে। এছাড়াও অন্যান্যভাবে দেশে প্রবাসীরা অর্থ প্রেরন করে থাকেন। সবকিছু মিলিয়ে প্রবাসীরা জিডিপিতে প্রায় ২৫ শতাংশ কন্ট্রিবিউশন করছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতি বছর প্রায় বিশ লক্ষ কর্মসংস্থান করছে যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের অপার জন সম্পদ রয়েছে। এই বিশাল জনসম্পদকে সঠিক ট্রেনিং দিয়ে  প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন সম্ভব। এইজন্য প্রবাসীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

জাফর আহমেদ খান বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ওয়ান ষ্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। প্রবাসীরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। বর্তমানে প্রবাসীদের প্রায় ৬০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।