ক্রিকেট: খুশির বানে ভাসছেন পাইবাস

বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতির গ্রাফ ক্রমে ওপরের দিকেই উঠছে। এশিয়া কাপে পারফরমেন্সের প্রতিফলন ছিলো টি-টোয়েন্টিতেও। আয়ারল্যান্ডকে তাদের মাটিতে ধবলধোলাই দিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। বেরিয়ে এসেছে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিগত পারফরমারও। সেই ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে অনিন্দ এক রেকর্ড গড়েছিলো বাংলাদেশ। পরে আর ধারাবাহিকতা রাখতে পরেনি। বর্তমান দলে পারফরমার থাকায় সাফল্য আসতে শুরু করেছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের যে সিরিজ শেষ করেছে বাংলাদেশ, তাতে ব্যক্তিগত পারফরমেন্সের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। প্রথম ম্যাচের দিকে তাকালে দেখা যাবে ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় বিভাগে ভালো খেলেছে। সাকিব আল হাসান ৩৩ বলে খেলেছেন ৫৭ রানের ঝড়ো ইনিংস। তাতে ৯টি চারের মারও আছে। মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান জিয়াউর রহমান পাঁচটি ছয়ে ১৭ বলে করেছেন ৪০ রান। এই দুই ব্যাটসম্যানকেও ছাপিয়ে গিয়েছিলেন ইলিয়াস সানি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির অভিষেকে চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি এ স্পিনার। কোন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের এটিই ইনিংসে সর্বোচ্চ সাফল্য। ওই পারফরমেন্স দিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতে নেন সানি। পরের ম্যাচের দিকে লক্ষ্য করলে গর্ব হবে। পরাজয়ের কিনারা থেকে ম্যাচ বের করে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের ১৪৭ রানের পুঁজিতে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান নাসির হোসেন যোগান দিয়েছেন অপরাজিত ৫০ রান। পরে তিন অফ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক, ইলিয়াস সানি এবং মাহমুদউল্লাহ আঁটসাঁট বোলিং দিয়ে আইরিশদের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নেন। নাসিরকে দেওয়া হয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে জ্বলে উঠেন পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা। যেমন বোলিংয়ে তেমনি ব্যাটিংয়ে আগুন ঝড়িয়েছেন। চার ওভারে ১৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন। লেজের দিকে ব্যাট করতে নেমে চারটি ছয়ের সাহায্যে ১৩ বলে খেলেন ৩০ রানের ইনিংস। এমন পারফরমেন্সের পর ম্যাচ সেরার পুরস্কার অন্য কারো হাতে যেতে পারে না। এই ম্যাচেও টান টান উত্তেজনা রেখে শেষ বলে জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বলতে গেলে আইরিশদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে একাধিক পারফরমার দেখে কোচ রিচার্ড পাইবাস খুশিই হয়েছেন,‘পরের ম্যাচ দুটিতে দুই দলই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। প্রথম ম্যাচে কিছু করতে না পারলেও পরের দুই ম্যাচে কিছু করার চেষ্টা ছিলো আয়ারল্যান্ডের।’ প্রথম ম্যাচ ৭১ রানে, দ্বিতীয় ম্যাচ ১ রানে এবং শেষ ম্যাচ ২ উইকেটে হেরেছে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশ স্পিনে বরাবরই ভালো। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও তা প্রতিতীয়মান। প্রধান কোচ পাইবাস তার বোলিং বিভাগের প্রসংসা না করে পারেননি.‘স্পিন বিভাগের ওপর আমি খুবই খুশি। সিমারদের জন্যও সরফরটি খুব ভালো ছিলো। নর্দান হ্যামশায়ারের কন্ডিশনে তাদের বোলিং অভিজ্ঞতা হয়েছে। ব্যাটিংটাও খাটি ছিলো। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আমাদেরকে কিছু কাজ করতে হবে।’ টি-টোয়েন্টিতে যে গতিতে খেলছে বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারলে সাফল্য ধরা দিলেও দিতে পারে। যদিও বাংলাদেশকে গ্রুপ পর্ব পেরুতে হলে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে হারাতে হবে।