এক লাখ নারী কর্মী নেবে হংকং, এ মাসেই চূড়ান্ত চুক্তি

বাংলাদেশ থেকে হংকং এক লাখের বেশি নারী কর্মী নিয়োগ করবে। এ বিষয়ে সম্প্রতি বিএমইটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই নারী শ্রমিকরা হংকং যেতে পারবেন। আগস্ট থেকেই হংকংয়ে শ্রমিক নিয়োগ শুরু হবে বলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করছে। 
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান জনকণ্ঠকে বলেন, এক লাখ মহিলা শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সঙ্গে হংকং কর্তৃপক্ষ একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হবে। হংকং কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে ‘হাউস কিপার’ পদে এই শ্রমিকদের নেবে। মাসিক বেতন দেবে ৪৯০ মার্কিন ডলার। তাঁরা একদিন সাপ্তাহিক ছুটিও ভোগ করতে পারবেন। থাকবে চিকিৎসা বীমা। নিয়োগ কর্তা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের দুই মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে যাবে। এখানে কোন শ্রমিককে একটি টাকাও ব্যয় করতে হবে না। এক বছরের মধ্যে এক লাখ নারী শ্রমিক হংকং যেতে পারলে ভবিষ্যতে আরও কর্মী সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। 
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী শ্রমিকদের নিয়োগ দাতা প্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহের ‘ওরিয়েন্টেশন কোর্স’ করিয়ে নিয়ে যাবে। আর যারা একেবারে নতুন তাদের জন্য দুই মাসের ট্রেনিং দেয়া হবে। বিনা খরচে হংকংয়ের নিয়োগ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবে। চূড়ান্ত চুক্তি হলে সরকারী পর্যায়ে এই নারী শ্রমিকদের হংকং পাঠানো হবে। এখানে কোন জনশক্তি রফতানি কারক প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারবে না। কারণ পুরো খরচ দিয়েই নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নারী শ্রমিকদের হংকং নেবে। তাই মধ্যস্বত্ব ভোগী কেউ থাকবে না। সম্প্রতি উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল হংকং সফর করে জনশক্তির নতুন বাজারটি সৃষ্টি করেছেন। বিএমইটির ডিজি সামছুন নাহার এমন তথ্য জানিয়েছেন। উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল হংকং সফরকালে হংকং কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে হাউস কিপার নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশী মহিলা শ্রমিকরা বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করে এমন কথাও তাঁরা বলেন। পরে তারা একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেন। এ মাসেই দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 
এদিকে, বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডও নারী শ্রমিক নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। তারা প্রায় ৪শ’ গার্মেন্টস কর্মী ও নার্স নিয়োগ করবে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার আগামী মাসের দিকে খুলে যাবে এমন আশ্বাস দিয়েছে সেদেশের কর্তৃপক্ষ। থাইল্যান্ডের সঙ্গে এখনও কোন প্রকার এমওইউ স্বাক্ষর হয়নি। তবে অচিরেই থ্যাইল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। হংকং ও থাইল্যান্ড এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে কোন শ্রমিক নেয়নি। তবে এ দু’টি দেশে বেশ কিছু বাংলাদেশী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। থাইল্যান্ডে মাছ ধরার কাজে অনেক বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করেন। তবে নারী শ্রমিকের সংখ্যা সেখানে খুব কম। তারা নিজ উদ্যোগেই ওই দেশে গেছেন। সরকারী পর্যায়ে এবারই প্রথম এই দু’টি দেশে বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়োগের বিষয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। আলোচনা অনেক দূর এগিয়েও গেছে। এখন আলোচনাটি কার্যক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের বেকারত্ব কিছুটা হলেও কমে আসবে। দেশে রেমিটেন্স প্রবাহও বাড়বে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শ্রমবাজার ভাল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি জনশক্তি রফতানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নৈতিক অবস্থান স্বচ্ছ থাকতে হবে। আইন করে প্রতারণা বন্ধ করা যাবে না। গরিব মানুষদের ঠকানোর হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দালাল ও আদম পাচার চক্রকে উৎখাত করতে হবে। একটা মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে জনশক্তি ব্যবসায়ীদের। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে এখন শ্রমবাজার খোলা রয়েছে। সৌদি আরবের বাজারটিও খুলে যাবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষ। যে কোন সময় মালয়েশিয়া শ্রমিক নিয়োগের ঘোষণা দেবে। সুইডেন, আলজিরিয়া, এ্যাঙ্গোলা, কঙ্গো ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাজার খুলে গেছে। এসব দেশে লোক পাঠানো শুরু হয়েছে। এর বাইরে নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, অস্টেলিয়া, কানাডা, সুদান, গ্রীস, লাইবেরিয়া, তাঞ্জানিয়া, এস্তোনিয়া, আজারবাইজান, নাইজিরিয়া, বোতসোয়ানা, সিয়েরালিয়ন, পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে শ্রমবাজার খোঁজা হচ্ছে। 
এসব দেশে বাজার সৃষ্টি করতে পারলে দেশের বেকার সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। বর্তমানে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ যতটা রয়েছে তার চেয়ে অনেক বাড়বে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করছে। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি বলেছেন, এ বছর আমাদের টার্গেট ছিল দেশ থেকে সাড়ে ৬ লাখ লোককে বিদেশে চাকরি দিয়ে পাঠানো। বছরের সাড়ে ৬ মাসে প্রায় ৪ লাখ লোক বিদেশে চাকরি নিয়ে গেছেন। আমরা এখন আশা করছি বছর শেষে টার্গেটের চেয়ে আরও অনেক বেশি লোককে বিদেশে চাকরি দিয়ে পাঠানো সম্ভব হবে। এ কারণেই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শ্রম বাজার খোঁজা হচ্ছে।