মূল্যস্ফীতির দৈত্যকে বোতলে ভরে দেয়া হচ্ছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, মূল্যস্ফীতির দৈত্যকে বোতলে ভরে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের চেয়ে ইউরোপের বিদ্যা বুদ্ধি বেশি থাকলেও তারা উন্নতি ধরে রাখতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে ইউরোপ এখন শঙ্কিত। ড. আতিউর ট্রাস্ট ব্যাংককে একটি সবুজ ব্যাংক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, পরিবেশের ক্ষতির জন্য উন্নত বিশ্বকে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত। দেশে পরিবেশবান্ধব ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করায় বিশ্বের দরবারে অর্থনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। গতকাল সিরাজগঞ্জ শহরের শহীদ মুনসুর আলী অডিটরিয়ামে ট্রাস্ট ব্যাংক লিঃ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান আরও বলেন, ধনীদের ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয়ার প্রবণতা কম। গরিব ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থই ফেরত পাওয়া যায়। তাই এ বছর ৫৯ হাজার কোটি টাকা এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যার ২৪ শতাংশ ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ট্রাস্ট ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শাহ আলম সরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গভর্নরের উপদেষ্টা বিরু পাংখ পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান, ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণকারী পাচলিয়ার হযরত আলী প্রমুখ। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের পর ন্যাশনাল ব্যাংকের অর্থায়নে মাছুমপুর জরিপল্লী মহিলা ক্লাস্টার পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় ড. আতিউর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন অনেকটাই পূরণ হয়েছে। একা কোন সরকারের পক্ষে সকল স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের সকলের হাত এগিয়ে দিতে হবে। সরকারের বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে। শুধু ধনীদের ঋণ দেয়া চলবে না। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঝে বেশি বেশি ঋণ বিতরণ করা প্রয়োজন। এক সময় ব্যাংক শুধু বড়দের ঋণ দিতো। এখন চাকা ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে। শহরে ব্যাংকের একটি শাখা করলে গ্রামেও একটি শাখা খুলতে হবে। দিন শেষে ঘোষণা থাকতে হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে কত টাকা ঋণ দিতে পারবেন। 
ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে না পারলে ব্যাংক থাকবে না। তিনি ব্যাংক গুলোকে ঋণ বিতরণে অনুৎপাদনশীল খাতকে নিরুৎসাহিত করে উৎপাদনশীল খাতে বেশি ঋণ দেয়ার পরামর্শ দেন।