ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে

এই মুহূর্তে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশের ওষুধের অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। বিশ্বের ৮০টি দেশে এ দেশের ওষুধ রপ্তানি হয়ে থাকে

সদ্যসমাপ্ত ২০১১-১২ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন বুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার। তার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে।

জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ওষুধের চাহিদা। দেশেই অনেকগুলো ওষুধ কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ওষুধ শিল্পের উনয়নে এখনও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা এবং আইনি প্রতিবন্ধকতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলেই দেশে উৎপাদিত ওষুধ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে ২০১৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

এদিকে দিন দিন বাংলাদেশের ওষুধের বাজার আরো সমপ্রসারিত হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত ওষুধ এবার আফ্রিকা, এশিয়ার বাজার ছাড়িয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হওয়ার পথে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল উৎপাদনে যাওয়ার জন্য এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনতে হয় চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। যেখানে প্রচুর টাকা চলে যায়। বাংলাদেশে যদি এই কাঁচামাল তৈরি করা যায়, তাহলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে এবং প্রস্তুতকৃত ওষুধ দেশের বাইরে রপ্তানি করলে বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করাও সম্ভব। তাই কাঁচামাল উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওষুধ শিল্পপার্ক’ স্থাপনের বিকল্প নেই। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো, স্কয়ার ও ইনসেপ্টা আমেরিকায় ওষুধ রপ্তানির জন্য নিবন্ধন পাওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ও স্কয়ারের খুব শিগগিরই নিবন্ধন পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে খুব শিগগির লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে এসব শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি।

ওষুধ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, এই মুহূর্তে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশের ওষুধের অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। এখন বিশ্বের ৮০টি দেশে এ দেশের ওষুধ রপ্তানি হয়ে থাকে।

ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজার ধরতে পারলে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ও ইনসেপ্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু আইনি ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো দূর করতে পারলে বিশ্ববাজারে ওষুধ রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সরকারি সহায়তা পেলে এ বাজার ২০ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট’ বা এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপন করা। ইতোমধ্যে ঢাকার অদূরে গজারিয়ায় এজন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ পার্ক স্থাপন করা হলে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদিত হবে, আগামীতে ওষুধ রপ্তানি আরো বাড়বে।

২০০৯-১০ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০০৮-০৯ সালে ছিল ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের সমান। ২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।
ওষুধ শিল্পের সংশ্লিষ্টরাা বলছেন, বর্তমানে ওষুধ শিল্পের ৭০ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মদ্রা খরচ হচ্ছে। তাই মূল্যবান এ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে হলে প্রস্তাবিত কাঁচামাল উৎপাদনের শিল্পপার্ক নির্মাণে হাত দিতে হবে।