বিদ্যুত্ সংযোগ ছাড়াই আলোকিত ঢাকার রাস্তা

কোনো বিদ্যুত্সংযোগ ছাড়াই আলোকিত থাকবে ঢাকার রাস্তা। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে রাস্তাগুলোকে আলোকিত করার জন্য এরই মধ্যে রাস্তায় বসানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সোলার প্যানেল। কাকরাইল থেকে জোনাকি সিনেমা হল, ফকিরাপুল, আরামবাগ হয়ে নটরডেম কলেজ পর্যন্ত ৬১টি থামে দুটি করে ফিডিং বা সোলার প্যানেল লাগিয়ে একেক থামে চারটি লাইট দিয়ে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ফলে রাস্তার এই বাতিগুলো থেকে রাতে বিদ্যুত্সংযোগ ছাড়াই আলোকিত করছে নগরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার রাস্তা আলোকিত করতে সেই যে কেরোসিন কুপি দিয়ে শুরু হয়েছে, এরপর এসেছে বৈদ্যুতিক বাল্ব। তারপর এসেছে সোডিয়াম লাইট। প্রযুক্তির উন্নতির পথে এখন লাগানো হচ্ছে সোলার লাইট। দিনে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুত্ সংগ্রহ করে জ্বলবে এই লাইটগুলো। এর জন্য কোনো স্বাভাবিক বিদ্যুত্সংযোগ লাগবে না। ঢাকা সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (বিএমডিএফ) আর্থিক সহায়তায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত বছরে নেয়া উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখছে এ বছর।

নয়াপল্টন গাজীভবনের ব্যবসায়ী আহমেদুল কবির জাকির বলেন, বহু দিন পর সিটি করপোরেশন একটা ভালো কাজ করেছে। এভাবে সোলার লাইট দিয়ে সারা বাংলাদেশের রাস্তার আলোর কাজ তো বটেই, ঘরের কাজেও লাগানো উচিত। এতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে দেশের মানুষ কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কাকরাইল মোড় থেকে শুরু করে নটরডেম কলেজ পর্যন্ত লাগানো সোলার প্যানেলসহ লাইটগুলো রাতে সাধারণ লাইটের মতোই আলো ছড়াচ্ছে। লম্বা স্টিলের থামের মাথায় দুইটি সোলার প্যানেল বসানো। তার দুই পাশে দুইটি করে লাইট বক্স আছে। এক একটি লাইট বক্সে দুইটি করে লাইট লাগানো আছে। আর আছে ব্যাটারি। দিনের আলোতে সূর্যের আলো থেকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুত্ উত্পন্ন হয়ে তা ব্যাটারিতে জমা থাকবে। রাতের বেলা তা আবার অন্ধকার দূর করবে। সোলার লাইট ও এর সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুত্) মাহতাব আহমেদ বলেন, এটা একটা পাইলট প্রকল্প। বিএমডিএফের সহায়তায় বাস্তবায়িত এই কাজ এক কথায় সফলই বলা চলে। রাস্তা আলোকিত করতে ওই জায়গাটুকুতে বিদ্যুত্ খরচ হতো ৭ কিলোওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুত্ দিয়ে দুইটি আবাসিক বিল্ডিং আলোকিত করা সম্ভব। ২৭ জুন চালু হওয়ার পর থেকে গত ১৩ দিনে আমাদের পর্যবেক্ষণে এই প্রকল্পটি সফল হয়েছে। আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে। তবে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ব্যাটারি আর সোলার প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ। ব্যাটারি পাল্টানোর ব্যাপার আছে। ঢাকায় যে পরিমাণ ধুলা, এই ধুলায় সোলার প্যানেল ঢেকে যাবে। কাজেই কিছুদিন পর পর প্যানেল মুছে দিতে হবে।

দেশে যখন বিদ্যুতের নাজুক অবস্থা, ঠিক তখনই ঢাকার রাস্তায় শুরু হয়েছে সোলার লাইট লাগানোর কাজ। সূর্যের আলোনির্ভর এই লাইটগুলো জ্বলবে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুত্ সংগ্রহ করে। এতে করে বিদ্যুতের ওপর থেকে ক্ষুদ্র পরিমাণে হলেও একটা চাপ কমবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কোম্পানির সহায়তায় সারা ঢাকায় এমন সোলার লাইট লাগানোর পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনের আছে বলে জানান মাহতাব আহমেদ। তবে সোলার লাইটের ধারাবাহিক কার্যকারিতা ও সুষ্ঠুভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করছে কিনা তা দেখার জন্য আরও কিছুদিন নগরবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।