সমুদ্রজয়ের এলাকায় নতুন গ্যাস ব্লক

সমুদ্র জয়ের ফলে পাওয়া এক লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার এলাকা নতুন করে গ্যাস ব্লকে ভাগ করা হচ্ছে। বিদেশি কোম্পানি দিয়ে এই এলাকার গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য করা হচ্ছে নতুন করে উত্পাদন বণ্টন চুক্তি ২০১২ (পিএসসি)-এর খসড়া। রফতানি নিষিদ্ধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের নিয়ম রেখেই নতুন পিএসসি চূড়ান্ত করা হবে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুন্যাল ফর দ্য ল’ অব দ্য সী’র (ইটলস) রায়ে বাংলাদেশের পূর্বদিকের সাগরে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে ব্লক ভাগ করে ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই ম্যাপের খসড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই ব্লক চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হবে। তবে এটি শুধু দেশের পূর্বদিকের সীমানা বরাবরই থাকবে। পশ্চিমের সীমানা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সেদিকে কোন ব্লক করা হবে না। ভারতের সাথে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা চলছে।

সমুদ্রের কিছু এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আগেই দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। কিন্তু এলাকার বিষয়টি অমীমাংসিত থাকায় তা বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এই বরাদ্দ না দেয়া এলাকা এখন বরাদ্দ দিয়ে দেয়া হবে,  না নতুন করে দরপত্র আহবান করা হবে—সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর জানান, সমুদ্রে নতুন করে ম্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত হবে।

বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কনোকো ফিলিপস ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপের কাজ শেষ করেছে। সাগরের দুই হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এই জরিপ করা হয়েছে। জরিপ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা চলছে। কিছুদিনের মধ্যে সেখানে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে কিনা তা জানা যাবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, পিএসসির খসড়া পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও একবার আইন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। আইনের পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এরপর আগামী মাসের মধ্যে এই খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রী পরিষদ সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

গ্যাস বা তেল ক্ষেত্রে কোনো বিস্ফোরণ ঘটলে অথবা অন্য কোনো ধরনের ক্ষতি হলে ঠিকাদার কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পিএসসিতে ‘প্রোটেকশন অব এনভায়রনমেন্ট’ নামে নতুন একটি অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছে, যাতে করে পরিবেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করে। কোনোভাবেই সমুদ্রের এই গ্যাস রফতানি করা যাবে না বলেও পিএসসিতে নতুন অনুচ্ছেদ রাখা হয়েছে। পিএসসি ২০১২- এর খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, করের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে কর্পোরেট আয়কর, সাব কন্ট্রাক্টরের আয়কর, কন্ট্রাক্টর ও সাব কন্ট্রাক্টরের অধীনে নিয়োগ পাওয়াদের আয়কর দিতে হবে। এ কাজে যে সম্পদ ও তথ্য ব্যবহার করা হবে তার মালিকানা পেট্রোবাংলার হবে।

নতুন পিএসসিতে বলা হয়েছে,  প্রথমে পাঁচ বছরের জন্য কাজ করার চুক্তি করবে ঠিকাদার কোম্পানি। এরপর আরো দুই বছর ও পরে আরো দুই বছরের জন্য কাজ করার জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পারবে। ঠিকাদার কোম্পানি যদি ভূতাত্ত্বিক জরিপ করার পর অনুসন্ধান কূপ খনন না করে তিন বছর পর এ চুক্তি বাতিল হবে। ন্যূনতম কাজের মধ্যে কোম্পানিকে অনুসন্ধানের প্রথম ধাপে ত্রিমাত্রিক জরিপ এবং ২য় ধাপে কমপক্ষে  একটা অনুসন্ধান কূপ করতে হবে। নিরাপত্তা জামানত (গ্যারান্টি) হিসাবে পেট্রোবাংলার কাছে প্রাথমিক অনুসন্ধানের সময় কোম্পানির একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখতে হবে। কোম্পানিকে সাগরে কাজের সময় বাধ্যতামূলকভাবে বেশিরভাগ বাংলাদেশিদের নিয়োগ দিতে হবে। অনুসন্ধানের সময় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ এবং উত্পাদনের সময় কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশি নিয়োগ দিতে হবে। কোম্পানির অবহেলার কারণে কোনো ক্ষতি হলে কোম্পানি কোনো অনুসন্ধান খরচ পাবে না। দামের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সিঙ্গাপুরের জ্বালানি তেলের বাজার অনুযায়ী হবে।

NewImage