আম্রপালিতেই সাফল্য

মাগুরা প্রতিনিধিজমির পরিমাণ ১ একর ১০ শতক। তাতে দু’বছর আগে লাগানো হয়েছে ৬০০ আম্রপালি আমগাছ। গত মৌসুমে প্রথম বছরেই গাছের আম বিক্রি হয়েছে ১ লাখ টাকার। আমবাগানের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে লাগানো পেঁপে ও হলুদ থেকে আয় হয়েছে দেড় লাখ টাকা। জমির চারপাশে লাগানো বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা কচাগাছের (জিকা) ডাল বিক্রি হয়েছে ১ লাখ টাকার। এ বছর গাছে ধরা আমের দাম উঠেছে ৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে মাত্র দু’বছরে ১ একর ১০ শতক জমিতে আয় হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ টাকা।পাশাপাশি জমিতে লাগানো হয়েছে ৫০টি লিচু গাছ। জমির চারপাশে কচাগাছের সারিতে লাগানো হয়েছে ১৫০ মেহগনিগাছ। ১০ বছর পর আম ও মেহগনি গাছ বিক্রি করে আয় হবে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা। পাশাপাশি ৫০টি লিচু গাছ থেকে সামনের প্রতি বছর আয় হবে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। সামান্য জমিতে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে আশাতীত সাফল্য পেয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলার দেড়ূয়া গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান।তিনি জানান, দীর্ঘ দিন ধান-পাটসহ গতানুগতিক ফসল চাষ করে আসছিলেন। যা থেকে তার উৎপাদন খরচ উঠছিল না। এ সময় তিনি ফলবাগানসহ আধুনিক ফসল চাষের বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। এরই এক পর্যায়ে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল হকের পরামর্শে ১ একর ১০ শতক জমিতে আম, সাথী ফসল পেঁপে, হলুদ ও লিচু চাষ করে দু’বছরে তিনি আশাতীত সাফল্য পেয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদি মুনাফা হিসেবে রয়েছে মেহগনি গাছ।দু’বছরে সাফল্যে তিনি এখন তার অন্যান্য ফসলের জমিগুলো ফলবাগানে রূপান্তরের চেষ্টা করছেন। একইভাবে তার দেখাদেখি এলাকার কৃষকরাও শুরু করেছেন আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের চাষ। এদিকে কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, খলিলুর রহমানের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক কৃষকই ফলবাগান তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছেন। এরই মধ্যে মাত্র দু’বছরে সদর উপজেলায় ৮০০ আমের বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগান থেকে আগামী বছর কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল হক জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের ফলবাগান তৈরি অনেকটাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মাগুরার মাটি ফল চাষের জন্য উপযোগী। ফলবাগান করতে প্রথম দফায় একবারই খরচ হয়। পরেবর্তীতে বিনা খরচেই প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন সম্ভব হয়।