৭৯ শতাংশ ব্যাংক অনলাইন সেবা দিচ্ছে: গভর্নর

 

ব্যাংকিং খাতের ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান অনলাইন সেবা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

তিনি বলেছেন, “বর্তমানে ৩৭টি ব্যাংক পুরোপুরি অনলাইন সেবা দিচ্ছে। আর ৪টি আংশিকভাবে এ সেবা শুরু করেছে। বাকি ৬টি ব্যাংকে অনলাইন সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ব্যাংকিং খাতের ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে অনলাইন সেবার আওতায় এসেছে।”

সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে চতুর্থ আন্তর্জাতিক ই-ব্যাংকিং ও মোবাইল কমার্স কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ, এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদ, ইকো ভারত আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আনান্ড রমান, ডেল বাংলাদেশের এ দেশীয় ব্যবস্থাপক সোনিয়া বশির চৌধুরী, ব্যাংকার্স সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার প্রমুখ।

ড. আতিউর রহমান আরও বলেন, “২০১২ সালের জুন পর্যন্ত ২৩টি ব্যাংককে মোবাইল ব্যাংকিং করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এ সেবা কার্যক্রম চালু করেছে। এর আওতায় ৭ লাখ গ্রাহকের হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খোলা হয়েছে। যারা লেনদেন করেছেন। মে পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। প্রতি মাসে গড়ে ৫ লাখ নতুন গ্রাহক এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।”

এ সময় তিনি আরো বলেন, “মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় আইএসডি সেবা চালু করা হলে সেবা খরচ ৪ থেকে ৫ টাকা নেমে আসবে। আবার আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার চালু করলে নিরাপত্তা বাড়বে।”

তবে এ জন্য বিটিআরসি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিধি বিধান সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় একে আজাদ বলেন, “সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোতে অনলাইন সেবা চালু করা জরুরি। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে। যাতে অনলাইনে ফাইল সম্পর্কে জানা যায়। এতে দুর্নীতি কমবে। খরচ ওসময় বাঁচবে।”

একে আজাদ আরও বলেন, “কিছু কিছু ব্যাংক অনলাইনে লেটার অব ক্রেডিট (ঋণপত্র) খোলার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সবাই এটি শুরু করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ নিতে হবে যাতে করে সবাই এটি চালু করে। এতে ব্যবসায়ীরা অফিসে বসে এলসি খুলতে পারবেন।”

নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আছে। আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে এ সেবা পৌছে যাবে।”

বীমা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল সেবা চালু করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া “সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোতে পুরোপুরি অনলাইন চালু করতে কিছু বিধির পরিবর্তন আনতে হবে” বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম।