সদ্যোজাত শিশুমৃত্যু বিশ্বের তুলনায় দ্বিগুণ কমেছে

গত এক দশকে সদ্যোজাত শিশু মৃত্যুর হার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক হারের চেয়ে দ্বিগুণ কমিয়েছে বাংলাদেশ। 
তবে যথাযথ সময়ের অনেক আগেই শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এই সফলতাকে নষ্ট করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 
বাংলাদেশে ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৪ শতাংশ হারে সদ্যোজাত শিশু মৃত্যু হার কমিয়েছে। এর পেছনে গর্ভধারণের সময় মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষার হার বৃদ্ধি, সন্তান প্রসবের সময় দক্ষ কর্মীর উপস্থিতি, সন্তান প্রসবে অস্ত্রোপচারের হার বৃদ্ধি এবং কার্যকর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে ধরা হচ্ছে। 
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির হেলথ পলিসি ও প্ল্যানিং জার্নাল বলেছে, এই সময়ে আঞ্চলিক সদ্যোজাত শিশু মৃত্যু কমার হার ২ শতাংশ এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই হার ছিল ২ দশমিক ১। 
বৃহস্পতিবার ঢাকায় সেভ দ্য চিলড্রেন ও সেভিং নিউবর্ন লাইভস তিন বছরের ওই গবেষণা প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশ তুলে ধরে। 
সদ্যোজাত শিশু মৃত্যু হার কমার ক্ষেত্রে এ সাফল্যকে ‘অসাধারণ’ মন্তব্য করে শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, অপরিণত শিশুর জন্ম আগামী দশকে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি ১০ শিশুর একজনের ক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের প্রত্যাশিত ৩৭ সপ্তাহের কয়েক সপ্তাহ আগেই জন্ম হয় এবং তাদের ওজন হয় আড়াই কিলোগ্রামের কম। 
সাধারণত অপরিণত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে এসব শিশুর জন্ম হয়, ফলে তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অনেক জটিলতার মুখে পড়ে। তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অকার্যকর হওয়ায় তারা বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ ও অন্যান্য অনেক জটিলতার কারণে মারা যায়। 
অপরিণত শিশু প্রসবের কারণ সম্পর্কে অধ্যাপক শহীদুল্লাহ বলেন, “গর্ভধারণের সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম অপরিণত শিশু প্রসবের অন্যতম কারণ।” 
ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, এক মাসের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ শিশু মারা যায় যথাযথ সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ হওয়ার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতায়। 
সেভ দ্য চিলড্রেনের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সমন্বিত কর্মসূচির কর্মকর্তা ইশতিয়াক মান্নান বলেন, “অপরিণত সন্তান প্রসব প্রতিরোধের কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান বিশ্বে নেই।” 
ওই সাময়িকী বলেছে, গত এক দশকে বাংলাদেশে সন্তান প্রসবের সময় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি ১২৯ শতাংশ বেড়েছে যেখানে গর্ভধারিণীর স্বাস্থ্যপরীক্ষার হার বেড়েছে ১২৭ শতাংশ। নিউমোনিয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা বেড়েছে ৬০ শতাংশ এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর জন্ম বেড়েছে ৬১৩ শতাংশ। 
সেভিং নিউবর্ন লাইভসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈয়দ রুবায়েত বলেন, অন্তত দেড়শ’ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, মালাবি ও উগান্ডার সদ্যজাত শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। আর বাংলাদেশের এ দায়িত্ব পালন করেছেন ৪০ জন বিশেষজ্ঞ। 
গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সদ্যোজাত শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে ১৩টি বড় ধরনের কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। 
ওই গবেষণায় জাতিসংঘের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে প্রতি এক হাজার শিশুর ক্ষেত্রে ২৭ জন জন্মের এক মাসের মাথায় মারা যায়। ২০০০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪১। 
অবশ্য বাংলাদেশের সর্বশেষ জনমিতি ও স্বাস্থ্য সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০১১ সালে প্রতি এক হাজার সদ্যোজাত শিশুর মধ্যে ৩২ জনের মৃত্যু হয়। আর ২০০০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪২।

ঢাকা, জুলাই ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)