চৌদ্দ বছর পর চালু হচ্ছে ইস্টার্ন বাইপাস প্রকল্প

চৌদ্দ বছর পর সরকার ‘ঢাকা সমন্বিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম ইস্টার্ন বাইপাস সড়ক বহুমুখী প্রকল্প’টি চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকল্প প্রণয়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কাজ শুরু করেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে প্রকল্প প্রণয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা জরিপ চালিয়ে শিগগিরই উন্নয়ন প্রকল্প প্রফর্মা (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হবে। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক আবদুল আজিজ। এতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক শেখ মোঃ আবদুল আহাদসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ, ওয়াসা, ভূমি মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে ঢাকায় বন্যা দেখা দিলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকাকে বন্যামুক্ত করতে জরুরিভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে সে সময় প্রকল্প গ্রহণের আগে বেশ কয়েকটি সমীক্ষা জরিপ করা হয়। এর ভিত্তিতে ২০০০ সালে সমন্বিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম ইস্টার্ন বাইপাস সড়ক বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বিশাল ব্যয় দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। কম খরচে প্রকল্প গ্রহণ করতে বিএনপি সরকারের সময়ে ফের সমীক্ষা জরিপ করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি। এর মধ্যে ঢাকার আশপাশের নিুাঞ্চলসহ বেশিরভাগ জলাভূমি বেদখল হয়ে যাওয়ায় ঢাকায় ফের বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে এবং সেই সঙ্গে অতিবৃষ্টি হলে ঢাকায় এবার বন্যা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় সভায় জানানো হয়, ঢাকার পূর্বাঞ্চলে নিুভূমি রক্ষা করাসহ বাঁধ দেয়া এবং প্রয়োজনীয় আরও কিছু উদ্যোগ হাতে নিলে ঢাকাকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। কর্মকর্তারা বলেন, শুধু বাঁধ দিলে বাঁধজুড়ে বস্তি গড়ে উঠবে। তাই বাঁধের পাশাপাশি প্রকল্প এলাকাজুড়ে পরিকল্পিতভাবে বনায়ন ও আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে হবে। জানা গেছে, টঙ্গী থেকে ডেমরা পর্যন্ত ১২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হবে। এর মধ্যে বাঁধের পাশ দিয়ে ডাবল লাইনের সড়ক নির্মাণ, বনায়ন ও আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হবে। তবে প্রকল্পের প্রায় ৬০ ভাগ টাকা ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় হয়ে যাবে। শিগগিরই আরও কয়েকটি বৈঠক করে এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে সমীক্ষা জরিপ চালিয়ে ডিপিপি প্রণয়নের উদ্যোগ দেয়া হবে। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এবারের প্রকল্প ব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আলতাফ আলী রোববার যুগান্তরকে বলেন, ইস্টার্ন বাইপাস প্রকল্পটি চালু হলে ঢাকার চেহারা পাল্টে যাবে। এতে শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ হবে না, যোগাযোগ ও আবাসন খাতেও ব্যাপক উন্নতি হবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকে যুগান্তরকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বছরে গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল। এবারও ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার আগে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলে ফের একই পরিণতি হওয়ার আশংকা থেকে যাবে।