`আসুন সবাই মিলে আলোকিত বাংলাদেশ গড়ি` : আতিক

ফোবানা’র (ফেডারেশন অব বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন্স ইন নর্থ আমেরিকা) ২৬তম বাংলাদেশ সম্মেলনে এবারের লক্ষ্য হচ্ছে- নতুন জেনারেশনকে সম্পৃক্ত করা। কেননা তারাই গড়ে তুলবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে। এ কথা বললেন ফ্লোরিডার বাই-ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস-প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান।  তিনি জানালেন- ফোবানা’র স্লোগান হচ্ছে- ‘আসুন সবাই মিলে আলোকিত বাংলাদেশ গড়ি।’ আতিক জানালেন, শুধু আয়ের জন্য নয়- বিদেশে আমরা গিয়েছি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে। এ জন্য বিদেশের মাটিতে আমাদের ভেবে-চিন্তে পা ফেলতে হবে। যাতে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়।
আতিক বাংলানিউজকে জানান, বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের সম্মেলনে অংশ গ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয় ১৩ সদস্য নিয়ে তিনি অলংকৃত করবেন এই সম্মেলন।
আতিক ২৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি সেখানে সুনাম কুড়িয়েছেন। দেশেও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন অনেক বেকারের।
আতিক বাংলানিউজকে জানান, ইউরোপীয় কান্ট্রিগুলোতে আমাদের ছেলেদের জন্য বিপুল সম্ভবনা রয়েছে। এ সুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা যাবে না। হাতে মাত্র আর ২/৩ বছর সময় রয়েছে।
দুঃখের সঙ্গে আতিক বলেন, ফোবানার নাম ভাঙিয়ে অনেকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এতে করে যে দেশের সম্মানহানি হচ্ছে তা তারা মোটেই চিন্তা করছেন না।
তিনি বলেন, যারা পদের জন্য আগ্রহী তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, ফোবানার মূল সংগঠনে আসুন। সম্মেলনে যোগ দিন। নির্বাচন করুন। সব রাজ্যের প্রতিনিধি ভোটারদের মন জয় করে জয়ী হন। নেতৃত্ব দিন। আমরা সানন্দে স্বাগত জানাবো।
আতিক বলেন, পদ নিয়ে যা হচ্ছে- তা কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা বাংলাদেশিরা বিদেশে বসে সামান্য ব্যাপার নিয়ে একাধিক দল বা সংগঠন করছি। তা বিদেশিদের হাসি উগ্রেক করছে। দেশের সুনাম ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা যারা বিদেশে গিয়েছি। ব্যবসা করে নিজেদের স্বাচ্ছন্দের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি- তারাই এ সংগঠন গড়ায় উদ্যোগী হই। ফোবানা একটা আমব্রেলা সংগঠন। বিদেশের সবাই এর ছায়ায় বসে একত্রিত হয়ে কাজ করতে চাই।
কিন্তু তা আর কিছু লোকের জন্য হচ্ছে না বলে ফের আক্ষেপ করলেন আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, এতে যারা বাধ সাধছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছি। কিন্তু এটা করতে গেলে বিদেশিরা হাসবে।
বলবে দেশে তো বটেই বিদেশে বসেও তারা ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। আর মামলায় বেরিয়ে যাবে ২৫/৩০ হাজার ডলার।
‘বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব ফ্লোরিডা’র প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান বলেন, এদের কাজ হলো ফোবানার নাম ভাঙিয়ে নামমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে অর্থ সংগ্রহ আর কাজ হাসিল করা। এটা আর চলতে দেওয়া মোটেই ঠিক নয়। ফোবানার লক্ষ্য সামাজিক কাজ।
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের মহামিলনমেলা হিসেবে পরিচিত ‘ফোবানা’র (ফেডারেশন অব বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন্স ইন নর্থ আমেরিকা) ২৬তম বাংলাদেশ সম্মেলন হবে আটলান্টিক মহাসাগরের তীর ফ্লোরিডায়। ফোবানার এক্সিকিউটিভ পদ ১৮টি।
বর্তমানে এর চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম বাদল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ডিউক খান, কনভেনর আতিকুর রহমান, মেম্বর সেক্রেটারি মুজিব উদ্দিন।
এ সম্মেলন শুরু হবে ৩১ আগস্ট সূর্য উদয়ের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় আর আকর্ষণীয় ‘লেবার ডে উইকেন্ডে’ ফোর্টলডরডেল সিটির আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে ‘ব্রাওয়ার কনভেনশন সেন্টার’ এ। সম্মেলন শেষ হবে ২ সেপ্টেম্বর।
আতিক বলেন,  সম্মেলনে মিডিয়া পার্টনার – বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এবং এনটিভি। এছাড়া গ্রামীণফোন আইটিও স্পন্সরের তালিকায় নিজের নাম লিপিবদ্ধ করেছে।
আতিক বলেন, তাদের এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের নানা অঙ্গরাজ্য ছাড়াও কানাডা, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী অন্যান্য পেশার লোকেরা যোগদান করেন। আমন্ত্রিত অতিথি থাকবেন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সিনেটর, মেয়র থেকে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
আতিক বলেন, ফোবানা সম্মেলনে যোগদানকারীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এটা একটা মহামিলনমেলা। এ তিনদিন আমরা একত্রিত হয়ে শুধু বাংলাদেশের কথাই বলি।
আমেরিকা এবং কানাডা থেকে ৪ ডজনেরও অধিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে খ্যাতিমান বিশিষ্টজনেরা এতে অংশ নেন।
তিনি বলেন, এবার এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন মন্ত্রী ও বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী অংশগ্রহনের করার কথা রয়েছে।
আতিক জানান, বিগত ২৫ বছরের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হবে এবারের সম্মেলন এবং সেভাবেই সকল প্রস্তুতি চলছে।
আতিক বলেন, বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি আমরা এবার নতুন প্রজন্মকে সার্বিকভাবে অগ্রাধিকার দেব। যাতে তারা বিদেশে গিয়ে দেশকে আরো ভালভাবে চিনতে-জানতে পারে। এরপর তারা নিবেদিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে।তাই আমরা চাই এবার নতুন শিল্পীরাও এ সম্মেলনে আসুক।
পুরানোরা তো কতোবার বিদেশে গেল। সম্মেলনে আগতরা বাংলাদেশি পণ্য কিনবেন। তাই সেখানে পণ্য বিকিকিনির জন্য স্টল থাকবে। যেকোনো প্রতিষ্ঠান নামমাত্র মূল্যে এ স্টল নিতে পারবেন।