হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ নিয়ে নতুন অর্থবছরের যাত্রা

এক হাজার ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার রিজার্ভ নিয়ে নতুন ২০১২-১৩ অর্থবছরের যাত্রা হয়েছে। সমাপ্ত ২০১১-১২ অর্থবছরের যাত্রার শুরুর দিন এ রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯১ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। এদিকে বিশ্বমন্দার কারণে আমেরিকান ডলারে বিনিয়োগ করা বৈদেশিক মুদ্রা বা রিজার্ভ তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মন্দার কবলে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ডলারে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে ৭৫ শতাংশ। কোনো কোনো ব্যাংক সুদের হার শূন্য শতাংশে নামিয়ে এনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বমন্দার কারণে এবার রিজার্ভ বিনিয়োগ থেকে আসা আয় কমে যাবে। বিশেষ করে মন্দার কারণে ওইসব দেশ ডলারের বিনিয়োগে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে ৭৫ শতাংশ। আবার কোনো কোনো ব্যাংকে সুদের হার শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন ডলার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে ইউরো, জাপানি ইয়েন, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, কানাডিয়ান ডলার ও পাউন্ডে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যদিকে গত বছরের আগের বছর সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসপত্রে বলা হয়েছিল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে পাঁচ বছরে। এ লক্ষ্যে ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১ হাজার ১০০ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কোটি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫০ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৩০০ কোটি এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলারে পেঁৗছানো হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর এক হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের যাত্রা শুরু হয় ১ হাজার ৭৪ কোটি ৯৭ লাখ ডলার রিজার্ভ নিয়ে। বছর শেষে ৩০০ কোটি ডলার রিজার্ভ বেড়ে ৩০ জুন তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৭ কোটি ডলারে। এর আগে ২০০৮-০৯ অর্থবছরের যাত্রা হয় ৫৮২ কোটি ডলার নিয়ে। বছর শেষে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭৪৭ কোটি ডলার। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ৬১৫ কোটি ডলার, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৫০১ কোটি ডলার, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ৩৪৯ কোটি ডলার এবং ২০০০-০১ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ১৩০ কোটি ডলার। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ৫৪৮ কোটি ডলার নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০৩ কোটি ডলার। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ১৩০ থেকে ১৭৩ কোটি ডলার পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ওঠানামা করে। ২০০১ সালের জুনে রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারে। চারদলীয় জোট সরকারের সময় রিজার্ভ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ওঠে। ২০০৬ সালে জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার সময় রিজার্ভ ছিল ৩৫৪ কোটি ডলার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গত দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় দ্বিগুণ বাড়ে। এর আগে এরশাদ সরকারের শেষ সময়ে ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৯১ কোটি ডলার। এরশাদ সরকারের পতনের সময় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে জুনে রিজার্ভ দাঁড়ায় ৮৮ কোটি ডলারে। বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৫ সালের জুনে রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ৩০৭ কোটি ডলারে উঠলেও ক্ষমতা ছাড়ার সময় রিজার্ভ ছিল ২০৩ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বাড়লে আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ানো হয়। উল্লেখ্য, এশিয়ার ৯টি দেশের মধ্যে আমদানি ও রফতানির লক্ষ্যে যে লেনদেন হয় তা প্রতি দুই মাস পর পর পরিশোধ করতে হয়। এসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি পরিশোধ করে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, ইরান ও মালদ্বীপের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির লক্ষ্যে আকুর দেনা পরিশোধ করা হয়। ডলার ও ইউরোর মাধ্যমে আকুর লেনদেন হয়ে থাকে।

আহমেদ তোফায়েল NewImage