বান্দরবানে আমের বাম্পার ফলন ঃ বদলে যাচ্ছে কৃষকের জীবনযাত্রা

বান্দরবানে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ের চাষিরা এখন জুম চাষের পরিবর্তে মিশ্র ফলের চাষের প্রতি ঝুঁকেছে। 
পাহাড়ে আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ এবং রাংগোয়াই চার জাতের আম চাষ করে ভাগ্য বদলেছে অনেক পাহাড়ি-বাঙালি চাষি। 
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে আম্রপালি ও রাংগৈ আম চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে। খেতে খুবই সুস্বাদু, পোকার আক্রমণ কম এবং স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই আমের চাষ বান্দরবানে বাড়ছে দিনদিন। 
এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আমের এ বাম্পার ফলন হয়। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এলাকাসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত একর জমিতে আম্রপালি ও রাংগৈ বাগান করা হয়েছে। 
উৎপাদিত বাগানের গাছে গাছে বিপুল পরিমাণ আমের বাম্পার ফলন ধরেছে। এতে কৃষকদের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে মৌসুমি ফল আম্রপালি ও রাংগৈ। আর্থিকভাবে প্রচুর লাভবান হয়েছে কৃষকরা। 
বিশেষ করে, এ উৎপাদিত আম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি আম ব্যবসায়ীরা বিক্রি করা হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা। বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে আমের চাষ হয়েছে। 
উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার আটশ ৫০ মেট্রিক টন। স্বল্পমেয়াদি এসব ফল চাষে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে কৃষকরা আম্রপালি ও রাংগৈ উৎপাদানের উপর ঝুঁকেছে। 
তবে ব্যবসায়ীরা বলছে হিমাগার না থাকায় পার্বত্যাঞ্চলের পচনশীল ফলগুলোর ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। ব্যবসায়ীরা প্রতিকেজি ৬০-৭০ টাকায় ক্রয় করে। আর বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি করছে। পাহাড়ি বান্দরবানের হাট-বাজারগুলোতে এখন রাংগৈসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আমে সয়লাব হয়ে গেছে। 
স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি সপ্তাহে বান্দরবান থেকে ৮-৯ মিনি ট্রাক আম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
এদিকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বলেছেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় প্রায় ৭০০ আম গাছ আছে বর্তমানে। তার মধ্যে আম্রপালি, গোপালভোগ ও যেটা বার্মার জাত বলা হয় রাংগৈ। 
এ বছর মোটামুটি আমের ভালো ফলন হয়েছে। জেলা পরিষদ ইনকামট্যাক্স ও ভ্যাটসহ প্রায় ২ লাখ টাকার আম ফল বিক্রি করেছে চলতি মৌসুমে। 
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য বান্দরবানে উপজাতীয়রা জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে, জুমের বদলে তারা এখন মৌসুমি ফলের চাষ করছেন। আম্রপালি, রাংগৈ ও মলি্লকা আমের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। 
তবে মৌসুম হিসেবে আমের দাম তুলনামূলকভাবে বেড়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।