নিজের মায়ের মতো দেশকে ভালোবাসো

শিক্ষার মাধ্যমেই একটি উন্নত জাতির পরিচয় পাওয়া যায়। যে জাতি যত বেশি উন্নত, সে জাতি তত বেশি সমৃদ্ধ। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ তৈরি হয়। আর এর মধ্য দিয়েই মানুষের নৈতিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রতিটি মানুষ যদি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয় তাহলে সে নানা জায়গায় গিয়ে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়ন করতে পারবে। আমি নৃবিজ্ঞানের একজন ছাত্রী হিসেবে বলতে পারি, এ বিষয়ে পড়লে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যেকোনো কিছু নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ পাওয়া যাবে। 
বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গবেষণার ক্ষেত্রে একজন করে নৃবিজ্ঞানীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আমাদের এই বিষয়ে পড়াশোনা করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, আমরা সব জায়গায় সব বিষয় নিয়েই কাজ করতে পারব। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রজেক্টে কিন্তু বেশিরভাগই থাকেন নৃবিজ্ঞানী। তবে পড়াশোনা করে সবাই যে উন্নতি করতে পারছে তা নয়; এই উন্নয়নের কথা বলতে গেলে আবার বিভিন্ন সেক্টর চলে আসে। যেমন সরকার যে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম বা প্রজেক্ট হাতে নেয় তার কোনোটাই কিন্তু তেমন ফলপ্রসূ হয় না। একটি প্রোগ্রাম যখন বাস্তবায়ন হয় না তখন অন্য আরেকটি প্রোগাম চলে আসে। এগুলোর মধ্যে তখন পলিসি কাজ করে।


নৃবিজ্ঞান এমন একটি বিষয় যেটা পৃথিবীর সব জায়গায় বিস্তার লাভ করেছে। নৃ অর্থ মানুষ আর বিজ্ঞান অর্থ জ্ঞান। এই দুয়ের সংমিশ্রণে মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কিত জ্ঞান হল নৃবিজ্ঞান। নৃবিজ্ঞান একটি মজার বিষয়। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি বাংলাদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। বিশেষ করে গবেষণা কাজে এটি বেশি খ্যাতি অর্জন করেছে। গবেষণা, প্রশাসনিক, ফোর্স ইত্যাদি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকা-ে আমাদের এই অধ্যয়ন খুব বেশি কাজ দেয়।


একজন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রত্যাশা, বাংলাদেশের মানুষ যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তবে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি মানুষের মানবিক মূল্যবোধকেও জাগ্রত করতে হবে। প্রতিটি মানুষের মনের ভেতর থেকে কুসংস্কার, গোঁড়ামি, হীনম্মন্যতা দূর করতে হবে। হিংসা-বিভেদ ভুলে দেশ গড়ার কাজে ব্রতী হতে হবে। নিজের দেশকে নিজের মায়ের মতো ভাবতে শিখতে হবে। প্রতিটি মানুষ যেন নিজেকে একজন খাঁটি মানুষ হিসেবে দাঁড় করাতে পারে। প্রতিটি কাজে পুরুষ বা নারী এই বিভাজন না রেখে সবাইকে যেন মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ, দেশ, সরকার সকলেরই সহযোগিতা থাকতে হবে। আর এই সহযোগিতা পেলেই দেশের উন্নয়ন অনেকাংশে এগিয়ে যাবে। আর এই প্রত্যাশা আমার সবসময়ই থাকবে। আমি চাই বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে প্রত্যেক নারী স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক। কেননা নারীরা নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারলে এ দেশের মানুষ উন্নয়নশীল দেশের মতো অনেকটাই এগিয়ে যাবে। নারীদের কাজের সুযোগ দিতে হবে, তাদেরকে ঘরে বেঁধে রাখার মানসিকতা দূর করতে হবে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তারা যে শুধু ঘরের কাজ করবে, এমন চিন্তা না করে দেশের উন্নয়নে প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ দরকার_ এই মনোভাব যদি সবার মাঝে গড়ে ওঠে তাহলে কিন্তু আমাদের এই দেশ একদিন সারা বিশ্বে গৌরবের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। 
দেশ গঠনের নতুন স্বপ্নের মধ্যে আমি স্বপ্ন দেখি_ বাংলাদেশকে একটি বেকারমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, রাজনীতি সহিংসতামুক্ত, যানজটমুক্ত দেশ হিসেবে দেখতে। আমাদের রক্তে গড়া বাংলাদেশ হবে নির্ভেজাল। ওপরের সব সমস্যা যদি নিয়ন্ত্রণে আনা যায় তাহলেই আমরা বাংলাদেশে সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকতে পারব।