মুরগির বিষ্ঠা থেকে জ্বালানি

প্রায় ৩০ লাখ মুরগির বিশাল এক খামার। সেখানে বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডিম পাওয়া যাচ্ছে। এই লাভের পাল্লা আরও ভারী করে তুলেছে মুরগির বিষ্ঠা। প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিষ্ঠা থেকে উৎপাদিত মিথেন দিয়ে মেটানো হচ্ছে বিদ্যুতের চাহিদা। মিথেন উৎপাদনের পর বাকি বর্জ্য সার হিসেবে যোগ করে বাড়ানো হচ্ছে মাটির উর্বরতা।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের বাইরে রয়েছে দেকিংইউয়ান নামের এই খামার। বেইজিংয়ের নাগরিকদের জন্য যত ডিম সরবরাহ করা হয়, এর ৭০ শতাংশ যায় এই খামার থেকে। বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই এখন চলছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংকট। এর মধ্যে চীনের এই মুরগির খামারের মতো প্রকল্প একই সঙ্গে পুষ্টি ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।
বেইজিংয়ের বাইরে ওই এলাকায় গেলে দেখা যাবে লাল ছাদের সারি সারি বাড়ি। এসব ভবনের ভেতর পালন করা হচ্ছে ডিম দেওয়া এসব মুরগি। মুরগিগুলো প্রতিদিন প্রায় ২১২ টন পরিমাণ বিষ্ঠা ত্যাগ করে। সেগুলো ফেলে না দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় একটি প্রক্রিয়াকরণ কারখানায়। সেখানেই বিষ্ঠা থেকে মিথেন গ্যাস উৎপাদন করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গ্যাস উৎপাদনের পর যে বর্জ্য থাকে, তা চলে যায় কৃষিজমিতে সার হিসেবে।
দেকিংইউয়ান এগ্রিকালচার টেকনোলজি কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্যান ওয়েনঝি বলেন, এ ধরনের প্রকল্প খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘চীন একটি উন্নয়নশীল দেশ। কিন্তু আগামী কয়েক দশকের মধ্যে আমাদের কয়লা ও গ্যাসের সরবরাহ ফুরিয়ে যাবে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য নতুন উৎস খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের আরও বেশি টেকসই উৎস অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এই মুরগির খামারের মাধ্যমে পাওয়া বায়ো-গ্যাস কাজে লাগানো হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন সরকার জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২০ সাল নাগাদ চীন তার জ্বালানি চাহিদার ১৫ শতাংশ মেটাতে সক্ষম হবে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুচালিত শক্তি ও জলবিদ্যুৎ বাঁধের মতো অজীবাশ্ম জ্বালানি উৎসের মাধ্যমে। কিন্তু পরিবশে-বিষয়ক অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকারকে আরও অনেক কিছু করতে হবে।
দ্য নেচার কনসারভেনসি সংগঠনের চীন শাখার একজন নীতি-নির্ধারক ইউ জি বলেন, কেবল দূষণ নিয়ন্ত্রণ করেই পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
খামার এলাকায় বাসরত একজন ব্যক্তি হি ফুজিং (৩৯) তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে সাধারণ জীবন যাপন করছেন। তিনি জানান, মুরগির খামারের মাধ্যমে যে মিথেন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে তাঁর পরিবারের রান্নাবান্নার কাজ ভালোই চলছে। তবে শহরে গাড়ি ধোঁয়ায় পরিবেশ-দূষণের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এখানকার পানির মানও ভালো নয়। কর্তৃপক্ষকে পরিবেশ-দূষণ রোধে এদিকেও নজর দিতে হবে।