‘তুষ থেকে বছরে ২২ লাখ মে. টন ভোজ্যতেল’ : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিউট

সারাদেশে উৎপাদিত ধান থেকে বছরে যে তুষ পাওয়া যায় তা থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিউটের (বিআরআরআই) এক বিশেষজ্ঞ।
সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাইস টেক এক্সপো-বাংলাদেশ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিআরআরআই’র কনসারভেশন এগ্রিকালচার মেশিনারি এবং অ্যাগ্রো প্রোসেসিং বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “সারাদেশে বছরে উৎপাদিত ধান থেকে যে তুষ পাওয়া যায় তা থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল উৎপাদন করা সম্ভব।
“এই তেল কোলেস্টেরলমুক্ত, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং বিদেশেও এর পর্যাপ্ত চাহিদা আছে।”
তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, “এখন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার ৯৫ শতাংশই আমাদের আমদানি করতে হয়। টাকার অঙ্কে সেটা মাসে হাজার কোটি টাকা।”
ভোজ্যতেলের বিপুল চাহিদা মেটাতে এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে বলেন, তেল আমদানির এই বিষয়টি নিয়ে সরকার এখনো বিপদে আছে।
এ অবস্থায় ধানের তুষ থেকে তেল উৎপাদন করা গেলে তা সঙ্কট নিরসনে সহায়ক হবে বলে মনে করেন জি এম কাদের।

“বছরে আমাদের প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ টন তেল লাগে। ধানের তুষ থেকে যদি ৫০ শতাংশ তেলের চাহিদাও মেটে সেটাও অনেক বড় ব্যাপার হবে।”
ধানের তুষ থেকে তেল উৎপাদনে আগ্রহ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞ আব্দুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, “আপনি যত দ্রুত সম্ভব এই গবেষণাপত্রটি আমাকে দেন। আমি এটার বিষয়ে প্রয়োজনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবো।”
তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত কৃষিতে আমাদের যত উন্নতি হয়েছে, কৃষকদের অবনতি হয়েছে তার চেয়ে বেশি। এটা আমাদের জন্য ট্রাজেডি। এটা দুর্ভাগ্য যে যারা দেশের অর্থনীতিতে এত বড় ভূমিকা রাখছে তারাই একপ্রকার সামাজিক অবিচারের শিকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর কনভেনার কে এম লায়েক আলি বলেন, “বাংলাদেশে ১৭ হাজারের বেশি রাইস মিল রয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ ফুল অটো, ৪০০ হাফ অটো এবং বাকিগুলো ম্যানুয়াল পদ্ধতির।
“সবগুলো রাইসমিল ফুল অটো হলে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন বেশি চাল পাওয়া যাবে”, বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে ১১ দশমিক ৭ মিলয়ন হেক্টর জমি থেকে বছরে ৩৫ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদন হয়। হিসাব অনুযায়ী দেশের চাহিদা মেটাতে প্রায় ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের ঘাটতি রয়েছে।
‘রাইস টেক এক্সপো-বাংলাদেশ’ এর এই আয়োজন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই যুগে দেশের চাল কলগুলোর আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও ভারতসহ চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, জার্মানি এবং স্পেনের ৫০ টির বেশি স্টলে চাল মেশিন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলা চলবে ২৭ জুন পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্টিল টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্বাস আদম আলী, জার্মান ভিত্তিক কোম্পানি ফ্রিগরটেক এর প্রতিনিধি ড. ক্লস এম ব্রাউনবেক প্রমুখ।