নতুন ছয়টি জাহাজ কিনছে বিএসসি

বহরে যুক্ত হবে দেড় বছরের মধ্যে

এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। স্বাধীনতার পর একসঙ্গে বিএসসির এত জাহাজ কেনার ঘটনা এটিই প্রথম। চীনের ঋণ সহায়তায় ওই দেশ থেকেই এগুলো সংগ্রহ করা হবে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিএসসির বহরে এসব জাহাজ যুক্ত হবে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্র পরিবহনে রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানি নিজেদের বাণিজ্য বাড়াতে ২১ বছর পর নতুন করে জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৯১ সালে ‘বাংলার শিখা’ নামে সর্বশেষ জাহাজ কেনা হয়েছিল। নতুন ছয় জাহাজের মধ্যে দুটি কনটেইনার জাহাজ, দুটি বাল্ক কার্গো ও দুটি প্রোডাক্ট ক্যারিয়ার। এগুলোর মধ্যে চারটির গড় ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার টন। আর দুটি কনটেইনার জাহাজের প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১ হাজার ২০০ টিইইউএস।জানা গেছে, জাহাজ কিনতে ১৫ জুন চীনের জাতীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বিএসসি। এ প্রসঙ্গে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মকসুমুল কাদের সমকালকে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে একসঙ্গে ছয়টি জাহাজ কেনার ঘটনা এটিই প্রথম। বিএসসির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ২০২১ সালের মধ্যে ২০টি নতুন জাহাজ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে এগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পুনরায় পুরোদমে বাণিজ্য শুরু করতে পারবে বিএসসি।জানা গেছে, বিএসসির বহরে এখন ২১টি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজের প্রতিটির বয়স ২৫ বছর পার হয়েছে। বর্তমানে সমুদ্র পরিবহনে একটি জাহাজের গড় আয়ু ধরা হয় ২৫ বছর। বেশিরভাগ জাহাজের গড় আয়ু অতিক্রম করায় আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিএসসি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির লাভের পরিমাণও কমছে। চলতি অর্থবছরে এখনও লাভক্ষতির হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। ২০১০-১১ অর্থবছরে লাভ হয়েছে ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।বর্তমানে বিএসসির বহরে থাকা নিজেদের মালিকানাধীন ১৩ জাহাজের মধ্যে ছয়টিই অচল। এর মধ্যে এমভি বাংলার মনি ও এমভি বাংলার মুখ চলতি জুন থেকে এবং এমভি বাংলার দূত অচল হয়ে পড়ে আছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে। ২০১১ সালের মে থেকে এমভি বাংলার শিখা, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে এমভি বাংলার ঊর্মি ও ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে এমভি বাংলার গৌরব সার্ভিসে নেই।