পুরো সচিবালয় অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের জালে

প্রশাসনের কাজের গতি বৃদ্ধি, গোপনীয়তা রক্ষা ও সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোসহ নিরাপত্তা জোরদার করতে পুরো সচিবালয়কে অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের জালে আবদ্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সচিবালয়ের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দফতর, অধিদফতর এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষায় শিগগিরই ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হচ্ছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সচিবালয়ে সাধারণ দর্শনার্থী ও সাংবাদিকদের প্রবেশসহ চলাচল সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি তথ্যব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই নেটওয়ার্কের আওতায় প্রত্যেক মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনে দফতরগুলো ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম ম্যাপ করে ডাটাবেজ গঠনের কাজ প্রায় শেষ করেছে। ২০১০ সালে ইউএনডিপি ও এটুআই এ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যাতে মাঠপ্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পারেন সে জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ল্যাপটপ, ওয়েবক্যাম, ডিফেন্স স্ক্যানিং মেশিন, সার্ভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক তিনটি আলাদা ডিজাইনে পাঁচ হাজার ডিজিটাল আইডি কার্ড সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সচিবালয়ে দর্শনার্থী এবং অন্যান্য যারা যান তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নম্বর কন্ট্রোল রুমে থাকবে। এ ছাড়া দর্শনার্থীর জন্য অনলাইন গেটপাস পদ্ধতি চালু হচ্ছে। তাদেরকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সচিবালয়ের প্রবেশপত্র সংগ্রহের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর প্রদান করতে হবে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা তার নাম গোপন রাখার শর্তে সকালের খবরকে জানান, সচিবালয়ের ভেতরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণসহ নানা ধরনের হুমকির তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অনলাইন গেটপাস চালু হলে সচিবালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে। একই সঙ্গে সচিবালয়ের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটানোর আশঙ্কা অনেকটা হ্রাস পাবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অত্যাধুনিক ভেহিকল সারভেইল্যান্স সিস্টেম চালুর ফলে সচিবালয়ের ভেতরে অবৈধ যান প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এ ছাড়া কেউ গাড়িতে বিস্ফোরক বা অবৈধ দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তার গাড়ি অটোমেটিক গেটের কাছে বিকল হয়ে যাবে। এ ছাড়া কন্ট্রোল রুম থেকেই গাড়ির ভেতরে কী আছে তা জানা যাবে। পাশাপাশি চালকসহ গাড়ির ছবি সংগ্রহ হয়ে যাবে কন্ট্রোল রুমে।
এসব বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব সি কিউ কে মোস্তাক আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমি মনে করি, এতে করে অনিয়ম-দুর্নীতি কমবে এবং নিরাপত্তা ও কাজের গতি বাড়বে। এ পদ্ধতি চালু হওয়ার পর দর্শনার্থীদের সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য অনুমতিপত্র অর্থাত্ গেটপাস চেয়ে আবেদন করতে হবে। স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, এ পদ্ধতি শিগগিরই কার্যকর হবে।