অসময়ে কপি চাষ করে লাখপতি হয়েছেন পাবনা ঈশ্বরদীর জয়নগরের কপি বারি

পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের জয়-বৃষ্টি কৃষি খামার’র স্বত্তাধিকারী মোঃ আব্দুল বারী ওরফে (কপি বারী) অসময়ে কপি চাষ করে লাখপতি। কপি চাষ করে তার ভাগ্য ফিরিয়েছেন। বারী জানান, গত কয়েক বছর যাবৎ তিনি অসময়ে ফুল কপির চাষাবাদ করে আসছেন। শীতকালে এ সকল সবজি ব্যাপক মাত্রায় চাষাবাদ হওয়ার ফলে তখন সবজির ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। বিক্রি না হলে গরুকে খাওয়ান এবং অনেক সময় ফুল কপি রাস্তায় ফেলে দিতে হয়।

সে কারণে কৃষক কপি বারী গত কয়েক বছর যাবৎ অসময়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, ধনিয়াপাতা আগাম চাষাবাদ করছেন। এবার তিনি তার সাড়ে ছয় বিঘা জমিতে উন্নত মানের ফুল কপি চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে প্রতিবারের চাইতে বেশ ভালো। এ সকল ফুল কপির গড় ওজন প্রায় ৫ থেকে ৬’শ গ্রাম করে। ফুল কপি গুলো দেখতে বেশ চমৎকার এবং খেতে সুস্বাদু। ফুল কপিগুলো অসময়ে হওয়ার কারণে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষক কপি বারী জানান, ২৫/৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এসব ফুল কপি জন্মে। অসময়ে ফুল কপি বাজারে ওঠার কারণে তিনি প্রায় প্রতি পিস ২৫/৩০ টাকায় বিক্রি করছেন। এছাড়া অনেক ক্রেতা তার জমি থেকেই ফুল কপি কিনে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছেন বলে তিনি জানান। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকার ও আশপাশের গ্রাম থেকে প্রতিদিনই তার জমিতে অসময়ের ফুল কপি দেখতে কৃষকেরা আসছেন এবং ফুল কপি চাষাবাদের পরামর্শ নিচ্ছেন। অসময়ে ফুল কপি চাষাবাদের কারণে কৃষক বারী ইতোমধ্যে কপি খেতাব অর্জন করেছেন তিনি মাত্র ১০ কাঠা জমি নিয়ে প্রথমে কৃষি আবাদ শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে বাউকূল, থাই পেয়ারা, লিচু, ধনেপাতা, অন্যান্য সবজি, আগাম ৩০ বিঘা কপিসহ পয়ষট্রি বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন। কপি বারী বলেন, সংসারে সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়াতে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে পারেন নি। এইচ এসসি পাশ করার পর থেকেই কৃষি কাজের সাথে জড়িত, এই মাটিই হচ্ছে আমাদের মতো কৃষকদের প্রাণ। মা এবং মাটির সাথে আমি মিশে আছি সব সময়, সারাক্ষন। ভোর বেলা থেকে শুরু হয় কৃষকের মাঠের কাজ। কাঠ ফাটা রোদ কিংবা অঝোর বৃষ্টিতে ভিজেও মাঠে কাজ করতে হয়। আমার আত্ম বিশ্বাস পরিশ্রম এবং সততার সাথে কাজ করলে বিধাতা একদিন তার ভাগ্যের পরিবর্তন করবেই। কপি  চাষ করার কারণে স্থানীয় কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কপি বারী সম্মাননা ও বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়েছেন। কপি চাষ করে এখন তিনি স্বাবলম্বী। সংসারের অভাব কাটিয়ে এখন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছেন। একজন প্রান্তিক কৃষক থেকে আজ বড় মাপের খামারের মালিক বনে গেছেন। সেই সাথে তার খামারে প্রতিদিন প্রায় চলি¬শ থেকে পঞ্চাশজন শ্রমিক নিয়মিত ভাবে কাজ করে থাকেন। এর মধ্যে ১২ জন নারী শ্রমিক এবং সাত জন প্রতিবন্ধী শ্রমিক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সততা, নিষ্ঠা এবং পরিশ্রম আজ তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। বারী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবকেরা চাকুরী নামের সোনার হরিণের পিছে পিছে না ঘুরে কৃষি কাজে এগিয়ে এলে তারা আরও বেশি ভালো করবে। তিনি অভিযোগে জানান, বীজ বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছে মাফিক কখনো-কখনো বীজের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সাত হাজার টাকা কেজির বীজ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। তিনি আরও জানান, চাষাবাদ করতে গিয়ে মাঝে মধ্যে সার বিষের কারণে নানা সমস্যাতে পড়তে হয়। প্রয়োজনের সময় সার বিষ না পেলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী আমাকে সার্বিক ভাবে বন্ধুর মতো সহযোগীতা করে থাকেন। তার সহযোগীতা পেয়ে আজ আমি এতোদুর এসেছি। বারী বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা তাকে এবং অন্যান্য কৃষকদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা এবং পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেই সাথে দেশকে আরও একটু এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কৃষক ভাইদের কৃষি কাজের দিকে আরও বেশি নজর দেয়ার জন্য আহবান জানান এবং উৎসাহিত করেন।
সুত্রবাংলাবার্তা ২৪ ডটনেট/ ২৪ জুন ২০১২