নগরায়ণের হুমকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ চীন জার্মানির উদ্যোগ

মানুষের জীবনযাত্রায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সন্নিবেশ ঘটাতে বাড়ছে নগরায়ণ। দ্রুত নগরায়ণ প্রক্রিয়ার ফলে পরিবেশের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যা ও হুমকি।

এসব সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও এর সমাধানে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ, চীন ও জার্মানি। জার্মান রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ, চীন ও জার্মানিতে যৌথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে মেগাসিটির সমস্যা ও হুমকি বিষয়ে একটি যৌথ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় জার্মানির ৭৭টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ও চীনের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে কাজ করছে। এসব সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি সমপ্রতি সমবেত হয়েছিলেন জার্মানির কোলন শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট এবং মানব উন্নয়ন কেন্দ্র সিএইচডি থেকে পাঁচ জন প্রতিনিধি সম্মেলনে আসেন।

সম্মেলনের অবকাশে ডিডাব্লিউ-এর সাথে সাক্ষাত্কারে সিএইচডি’র নির্বাহী পরিচালক বায়োজিদ যশোরী বলেন, আসলে নগরায়ণ প্রক্রিয়া কীভাবে বেড়ে উঠছে সেটা নিয়েই মূল আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও জার্মানির নগরায়ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে যশোরী বলেন, জার্মানির চেয়ে বাংলাদেশ কম উন্নত  দেশ। জার্মানির বিশেষজ্ঞরা শিক্ষা-দীক্ষার দিক থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। কিন্তু আমরা যদি বাস্তবতার দিকে তাকাই তাহলে দেখবো আমাদের দেশের মানুষ অনেক বেশি বুদ্ধিমান। এর অর্থ হচ্ছে, আমরা অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও টিকে থাকতে পারি। কিন্তু আমি জানি না, বাংলাদেশের মতো প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে পড়লে এরা কতটা এবং কীভাবে টিকে থাকতে পারবে। তবে এটা ঠিক যে, জার্মানি এবং বাংলাদেশ উভয় দেশে অনেক কিছুই রয়েছে, যেগুলো আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে, বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত বিনিময়ের মাধ্যমে অনেক বেশি উন্নতি করতে পারি। এছাড়া আমরা এখন মেগাসিটিতে বসবাস করছি এবং মেগাসিটির অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। ফলে আমরা মেগাসিটির অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান জার্মানদের সাথে বিনিময় করতে পারি।

নগরায়ণ প্রক্রিয়ার সাথে পরিবেশের সম্পর্ক এবং পরিবেশের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে বায়োজিদ যশোরীর মত হচ্ছে— ‘জার্মানির বন-কোলন শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে রাইন নদী। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে রাইন নদীর তীরকে চমত্কারভাবে সাজিয়ে এটিকে একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া রাইন নদীর পানি চকচকে পরিচ্ছন্ন। অন্যদিকে, বিভিন্ন কল-কারখানার বর্জ্য ফেলে বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর পানি আমরা এতটা দূষিত করে ফেলেছি যে, সেখানে মাছসহ পানিতে বসবাসকারী অন্যান্য প্রাণীর জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আমার কাছে মনে হয়েছে, নগরায়ণের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা বুড়িগঙ্গাসহ আমাদের সকল নদীর তীরকে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে পারি। এছাড়া পরিবেশবান্ধব নগরায়ণের উদ্যোগ নিতে পারি।’-ডয়চে ভেলে