পাঁচবিবিতে এবার সাদামাটির সন্ধান

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে চুনাপাথরের পর এবার সাদামটির (হোয়াইট ক্লে) সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুনিরা আখতার চৌধুরী শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খনন শেষে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৭০০ থেকে ৭৬০ ফুট পর্যন্ত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাদামাটির ৬০ ফুট মজুদ পাওয়া গেছে।”
আর ওই স্থানে চুনাপাথরের স্তুরের পুরুত্ব ৩৬ ফুট বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। চুনাপাথরের স্তরের ১৭০ ফুট নিচেই পাওয়া গেছে সাদামাটির খোঁজ।
সিরামিকপণ্য ও টাইলস তৈরিতে সাদামাটি ব্যবহার করা হয় বলে মহাপরিচালক জানান।
তিনি বলেন, পাঁচবিবিতে ১ হাজার ৭৯০ ফুট গভীর পর্যন্ত খননের পর ‘আদি শিলা’ পাওয়া যাওয়ায় বৃহস্পতিবার ওই কূপের খনন আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত আদি শিলাস্তরের পর অন্য কোনো খনিজ পর্দাথের সন্ধান মেলে না।
এর আগে জিএসবির পক্ষ থেকে চুনাপাথরের নিচে কয়লা পাওয়ার আশার কথা বলা হলেও এখন আর সে সম্ভাবনা থাকল না।
মুনিরা চৌধুরী বলেন, “যে বেসিনে চুনাপাথরের পাওয়া গিয়েছিল তার নিচেই সাদামাটির মজুদ রয়েছে। প্রথামিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল পাথরের স্তুরের পুরুত্ব ১০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কিন্ত বর্তমানে যে ৩৬ ফুট পুরুত্ব পাওয়া গেছে তাও ভাল বলে মনে করছি আমরা।”
ভূপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৪৯৪ ফুট গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধান কূপ খনন করে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮ কিলোমিটার প্রস্থের একটি বেসিনে গত ২ জুন এই চুনাপাথরের খনির সন্ধান পায় জিএসবি।
সংস্থার সহকারী পরিচালক এবং ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান মুহাম্মদ মাছুম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খনন শেষে ১ হাজার ৪৯৪ ফুট থেকে ১ হাজার ৫৩০ ফুট পর্যন্ত অর্থাৎ ৩৬ ফুট পুরু চুনাপাথরের স্তর পাওয়া গেছে। এরপর ১ হাজার ৫৩০ থেকে ১ হাজার ৭০০ ফুট পর্যন্ত রয়েছে শেল, ক্লে ও স্যাণ্ড স্টোনের স্তর।
“আর ১ হাজার ৭৬০ ফুট থেকে ১ হাজার ৭৯০ ফুট পর্যন্ত ওয়েদার জোন। এই ওয়েদার জোনের পর অর্থাৎ ১ হাজার ৭৯০ ফুট থেকে ১ এক হাজার ৮১৫ ফুট পর্যন্ত আদি শিলার স্তর।”
মহাপরিচালক জানান, চুনাপাথর ও সাদামাটির প্রকৃত মজুদ নির্ধারণের জন্য আরো চারটি কূপ খনন করা হবে। ওই কূপ খনন শেষেই সম্ভাব্যতা যাচাই করে জানা যাবে এখান থেকে চুনাপাথর ও সাদামাটি উত্তোলন আর্থিকভাবে লাভজনক হবে কি না।
এ কাজ শেষ করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে জানিয়ে জিএসবি মহাপরিচালক বলেন, “খনন কাজ মূলত শুকনো মৌসুম (নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত) করা হয়। বৃষ্টি শুরু হলে খনন করা যায় না।”
গত এপ্রিল মাসে পাঁচবিবি সদর উপজেলার আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের আগাইর গ্রামে খনিজসম্পদ আহরণের লক্ষ্যে এই খনন শুরু করে ভূতাত্ত্বিক জরিপ দল।
এর আগে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ ও সুনামঞ্জের টেকেরঘাটে চুনাপাথরের সন্ধান পাওয়া গেলেও ওই দুটি প্রকল্প লাভজনক হয়নি।
আর নেত্রকোণা ও শেরপুরে পাহাড়ে সাদামাটি পাওয়া যায়। তবে তা দেশের সিরামিকপণ্য তৈরিতে অল্পই ব্যবহার হয়।
এবারের প্রকল্পটির পরিচালক মো. নেহাল উদ্দিন জানান, খনিজ সম্পদ উন্নয়নে ভূ- বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির জন্য মোট ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।