জন্মগত বাঁকা পা চিকিৎসায় বাংলাদেশ শীর্ষে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সেফায়েতুল্লাহ বলেছেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশ এখন জন্মগতভাবে বাঁকা পা বা ক্লাব ফুট চিকিৎসায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। গত তিন বছরে দেশের ৫ হাজারেরও বেশি শিশু এই প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে গ্লেনকো ফাউন্ডেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধে সফল ক্লাব ফুট ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ডা. সেফায়েতুল্লাহ বলেন, ‘খুব দ্রুত এদেশে এ চিকিসাৎর বিস্তার ঘটেছে। ফলে ক্লাব ফুট আক্রান্ত শিশুরা তাদের বাঁকা পায়ের প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা জীবনের জন্য হাঁটার এ উদ্যোগ নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।’

সেমিনারে বিশষে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আওয়াল রিজভী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থপেডিক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নকুল কুমার দত্ত।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্লেনকো ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কলিন ম্যাকফারলেন।

বক্তারা বলেন, ‘কেবল রাজধানী ঢাকাতেই প্রতি বছর ১৩শ’ ৫২ জন শিশু জন্মগতভাবে বাঁকা পা নিয়ে জন্মায়। তার মধ্যে ৬৭ শতাংশ ছেলে এবং ৩৩ শতাংশ মেয়ে। সফল চিকিৎসার ফলে অনেক শিশুই এখন সুন্দর ও সাবলীলভাবে হাঁটতে পারছে।’

তারা জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৪১টি ক্লিনিকে ক্লাব ফুট রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চিকিৎসার জন্য কাউকে ৬০ কিলোমিটারের বেশি দূরে যেতে হচ্ছে না। শিগগিরই আমরা এই চিকিৎসার আরো বিস্তার ঘটাবো।’

উল্লেখ্য, প্রতি বছরে এদেশে ৫ হাজার শিশু জন্মগতভাবে বাঁকা পা নিয়ে জন্মায়। জন্মের পরপরই এ চিকিৎসা না করালে জীবনব্যাপী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পসেন্টি মেথডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ প্রতিবন্ধকতার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।