সারিবদ্ধ পদ্ধতিতে মুগডালের ভালো ফলন

দেশের মধ্যে সর্বাধিক মুগডাল উত্পাদনকারী এলাকা নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় এবার মুগ ডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে চলতি বছর প্রথমবারের মতো উদ্ভাবিত সারিবদ্ধ (লাইন) পদ্ধতিতে ফলন বেশি হয়েছে। উত্পাদন ব্যয় কম কিন্তু অধিক লাভজনক, দো-আঁশ মাটিতে ভালো ফলন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কম হওয়া এবং বিগত বছরগুলোতে মুগের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি উত্পাদিত ডাল বীজের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এ মৌসুমে ব্যাপকহারে মুগ ডালের আবাদ করেছিলেন। চলতি মৌসুমে বড়াইগ্রাম উপজেলায় মুগডালের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চাষীরাও বেজায় খুশি। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নাটোরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ সরকার বড়াইগ্রাম উপজেলার মহিষভাঙ্গায় মুগ ডালের খামার পরিদর্শন করেন এবং মুগবীজ সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশে উত্পাদিত মুগডালের প্রায় অর্ধেক উত্পন্ন হয় নাটোরের বড়াইগ্রামে। বড়াইগ্রামের মতো সারা দেশের ডাল চাষোপযোগী জেলা-উপজেলাগুলোতে মুগসহ অন্যান্য ডালের চাষ বাড়াতে পারলে বিদেশ থেকে আর ডাল আমদানি করতে হবে না। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষ হয়েছে। এ বছর ৬ হাজার ৯৩৭ মেট্রিকটন ডাল উত্পাদনের মাধ্যমে এখানকার কৃষকরা প্রায় ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা উপার্জনে সক্ষম হবে এবং ৩ হাজার ৪৬৮ মেট্রিকটন ডালের খোসা গো-খাদ্য হিসেবে বিক্রি করে আরও ১ কোটি ৪ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা বাড়তি উপার্জন করবে বলে কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা। পাশাপাশি ১৮ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন জৈবসার উত্পাদিত হওয়ায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের সাশ্রয় হবে। এছাড়া মাঠে ডাল উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত প্রায় ২০ হাজার কর্মজীবী নারীরা ডাল উত্পাদন মৌসুমের ৩০ কর্মদিবসে প্রায় ১২ কোটি টাকা উপার্জনে সক্ষম হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মেদপুর গ্রামের মুগচাষী রুহুল আমিন, মহিষভাঙার ওমর সোনার ও তিরাইল গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, মুগডাল চাষে খরচ কম।
প্রতি বিঘা জমিতে ২০০০-২৫০০ টাকা খরচ পড়ে। তবে সারিবদ্ধভাবে মুগ চাষ করলে শ্রমিক খরচ কম পড়ে। কৃষি অফিসের পরামর্শে এ পদ্ধতিতে মুগ চাষ করে এবার ভালো ফলন পাওয়া গেছে। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘা প্রতি ৬-৭ মণ হারে ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে এ ডাল ২৫০০-২৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া নিজেদের উত্পাদিত বীজেই এর আবাদ করা যায় বলে বীজেরও কোনো সঙ্কট হয় না বলে তারা জানান। বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা জানান, উত্পাদন ব্যয় খুবই কম, কিন্তু বিক্রয়মূল্য বেশি হওয়ায় এবং মাত্র ২ মাসে খরিপ—১ মৌসুমে এ শস্য ঘরে তোলা যায় বলে দিন দিন এ ডাল আবাদে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তাছাড়া সারিবদ্ধ পদ্ধতিতে খরচ কম কিন্তু ফলন বেশি হওয়ায় এবার প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে এ পদ্ধতিতে মুগ চাষ করেছেন চাষীরা। এছাড়া এ ফসলের চাষ জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে তিনি জানান।