‘খাদ্যপণ্যের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে দশমিক ৭৮ ভাগ’

মনজুর-এ আজিজ : খাদ্যপণ্যের দাম কমায় আগের মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতির সূচক কমেছে শূণ্য দশমিক ৭৮ ভাগ। এতে মূল্যস্ফীতির চেয়ে শ্রমজীবী মানুষের আয় বেড়েছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের খুব একটা লাভ হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার পরিসংখ্যান ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে একথা বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিদায়ী মহাপরিচালক শাহজাহান আলী মোল্লা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিডিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইং প্রণীত ১৯৯৫-৯৬ এর ১০০ ভিত্তি বছর অনুযায়ী মে ২০১২ এর মূল্যস্ফীতি হয় জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে ৯ দশমিক ১৫ ভাগ। যা গত এপ্রিল মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯৩ ভাগ। মে ২০১২-এ খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভুত উপ-খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪৬ ও ১২ দশমিক ৭২ ভাগ। যা এপ্রিলে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ১২ ভাগ ও ১৩ দশমিক ৭৭ ভাগ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গ্রামীণ পর্যায়ে সাধারণ পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ ভাগ। যা গত এপ্রিল মাসে ছিল ৯ দশমিক ২১ ভাগ। মে, ২০১২ খাদ্য ও খাদ্য বর্হিভুত উপ-খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩০ ভাগ ও ১২ দশমিক ৮২ ভাগ। এটি এপ্রিলে ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ০১ ভাগ ও ১৩ দশমিক ৯৭ ভাগ।
এছাড়া শহর পর্যায়ে সাধারণ পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ১২ ভাগ। যা এপ্রিলে ছিল ১১ দশমিক ৭৭ ভাগ। মে মাসে খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত উপ-খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ১৭ ও ১২ দশমিক ৪৪ ভাগ, যা গত এপ্রিলে ছিল ১০ দশমিক ৭২ ও ১৩ দশমিক ২৫ ভাগ।
মূল্যস্ফীতি কমা ও বাড়ার কারণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাসিক ভিত্তিতে এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে খাদ্য সামগ্রীর দাম কমেছে ১ ভাগ। প্রধানত চাল, আটা, চিনি ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী ইত্যাদির দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে। অন্যদিকে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শুন্য দশমিক ৩ ভাগ। যা এপ্রিলে ছিল শূন্য দশমিক ১১ ভাগ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত এক বছরের মূল্যস্ফীতির হার নিরুপিত হয়েছে ১০ দশমিক ৭৬ ভাগ। যা আগের এক বছরে ছিল ৮ দশমিক ৬৭ ভাগ।
এপ্রিল ২০১২ ও মে ২০১২ যথাক্রমে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচক ৬৭৫৮ দশমিক ৫৭ ও ৬৮৮৩ দশমিক ৫৬। যার ভিত্তিতে এ দুই মাসে জাতীয় মজুরি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৩ ভাগ ও ১৪ দশমিক ৭৩ ভাগ। এতে দেখা যায় মূল্যস্ফীতির চেয়ে শ্রমজীবী মানুষের আয় বেড়েছে।
এক্ষেত্রে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭৩ ভাগ, প্রস্তুতকারী শিল্পের শ্রমিকদের আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৩ ভাগ, নির্মাণ শিল্পে ৩৭ দশমিক ১৩ ভাগ, কৃষি ক্ষেত্রে ১৬ দশমিক ৭৭ ভাগ ও মৎস্য ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ১৪ ভাগ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী মহাপরিচালক বলেন, মূল্যস্ফীতি কমায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয় না বাড়ায় তাদের খুব একটা লাভ হবে না।