প্রবৃদ্ধির হার বেশ ভালো: বিশ্বব্যাংক

প্রবৃদ্ধির হার বেশ ভালো: বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৪-০৬-২০১২

চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘স্বাস্থ্যকর’ বা বেশ ভালো হিসেবে অভিহিত করেছে বিশ্বব্যাংক। আর এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এর পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এই দাতা সংস্থা।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা উন্নয়নশীল দেশের গড় প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি, আর দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধির (সাড়ে ৬ শতাংশ) কাছাকাছি। তবে অবকাঠামো ঘাটতি বিশেষ করে জ্বালানিসংকট মোকাবিলা করা না হলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে না। 
গতকাল রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ইকোনমিক আউটলুকে এসব কথা বলা হয়েছে। এটি প্রকাশ উপলক্ষে স্থানীয় একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্বব্যাংক।
এতে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন, দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত পরিচালক আর্নেস্তু মে, প্রধান আবাসিক অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া, সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রমুখ। 
আগামী বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এই ধরনের স্কিমে বাস্তবতা ও নৈতিকতার মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত। এ ধরনের সুযোগে এমন কিছু থাকা ঠিক হবে না, যা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনকে উৎসাহিত করে।’
বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির কারণেই বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির গতি বজায় থেকেছে। তবে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। কেননা, কয়েক বছর ধরে কৃষিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষির ভিত্তি সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।
বিশ্বব্যাংক পরামর্শ দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগপ্রবাহ নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে জিডিপির ৬ থেকে ৮ শতাংশ বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এখন জাতীয় সঞ্চয় ও বেসরকারি বিনিয়োগ হার হ্রাস পাচ্ছে।
সামষ্টিক অর্থনীতিতে বেশ কিছু ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, বহিঃ ঝুঁকিগুলোর মধ্যে ইউরো অঞ্চলে সংকট, মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামার আশঙ্কা প্রণিধানযোগ্য। অন্যদিকে জ্বালানি সংকট ও অবকাঠামো ঘাটতি—এই দুটি অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি গরিবের ওপর এক ধরনের কর—এ মন্তব্য করে সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেন, যেকোনো সচেতন সরকারের উচিত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দেওয়া। আর মূল্যস্ফীতি বিনিয়োগের ওপরও এক ধরনের কর। রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক প্রবণতা বলে তিনি মনে করেন। 
মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে নেমে গত এপ্রিল মাসে ৮ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। এটি ভালো খবর। কিন্তু খারাপ সংবাদটি হলো: খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতির হার গত মার্চে ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, এক বছর আগে ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
নতুন ব্যাংক প্রসঙ্গে সঞ্জয় কাঠুরিয়া আরও বলেন, এ দেশে এখন যত ব্যাংক আছে তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে তারল্যসংকটও রয়েছে। নতুন ব্যাংক পরিচালনা শুরু করলে আমানত সংগ্রহের প্রতিযোগিতা শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক পরিচালক অ্যালেন গোল্ডস্টেইন জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থ ছাড় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ৫০ কোটি ডলার অর্থ ছাড় হয়েছে, যা পুরো গত অর্থবছরের চেয়ে বেশি।