৩ বছরের ব্যবধানে গ্যাস উত্তোলন বেড়েছে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট

নিউইয়র্কে ২৮ মে সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল) অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিতাস গ্যাস ট্র্যান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ খান বলেছেন, স্বাধীনতার ৪১ বছর পর বাংলাদেশ তার জলসীমার একাংশের (পূর্বাঞ্চল) সীমারেখা নির্ণয়ে সক্ষম হলো। ভারতের সাথে চলমান আইনগত লড়াইয়েও বাংলাদেশ জিততে সক্ষম হলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হবে এবং এজন্যে দরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক সংগঠনের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা।

‘বাংলাদেশ তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ উন্নয়নে মহাজোট সরকারের সাফল্য’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং তা অনুষ্ঠিত হয় উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশীদের বানিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, শ্রমিক লীগ নেতা শামসুল আলম প্রমুখ। আব্দুল আজিজ খান বলেন, মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহনের সময় গ্যাস উৎপাদন হতো দৈনিক ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এখন সেটি বেড়ে ২১০০ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিনই গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে অর্থাৎ গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, শিল্প কারখানা এবং সার কারখানাগুলোর উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্যে নেয়া হয়েছে যাবতীয় পদক্ষেপ। আব্দুল আজিজ খান বলেন, গ্যাসের বিল বকেয়ার পরিমাণ গড়ে ৫/৬ মাস থেকে ২/৩ মাসে কমে এসেছে এবং গ্যাসের সিস্টেম লসের হার ৩ বছর আগে ছিল দৈনিক ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। এখন তা শূন্যের কোটায় নামানো হয়েছে দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে। মিয়ানমারের সাথে সমুদ্র সীমার নিষ্পত্তি হলেও সমুদ্রের তলদেশে গ্যাসসহ খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান চালানোর মত প্রযুক্তি কিংবা কারিগরি দক্ষতা বাংলাদেশের নেই। এ ব্যাপারে বিদেশী কোম্পানীর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভাসছে গ্যাসের উপর-এ বিষয়টিকে আরো দৃশ্যত: করতে পানির নিচে থেকে খনিজ সম্পদ আহরনের প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে হবে। আব্দুল আজিজ খান আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস একমাত্র জ্বালানী হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। গ্যাসের পরিমাণ ২০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট হলেও ব্যবহৃত হচ্ছে ৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট করে অর্থাৎ ব্যবহারের উপযোগী আরো ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে।

মাসখানেক আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের চলমান প্রক্রিয়া এবং মহাজোট সরকারের সাফল্য শীর্ষক আরেকটি সেমিনার হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে জাতীয় উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির সাথে প্রবাসীদের পরিচিত করা হচ্ছে-এ কথা বলেন ড. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাস্তবে কী ঘটছে এবং উন্নয়নের পথে কী অন্তরায় রয়েছে তা প্রবাসীদের জানা থাকা উচিত।