কুড়িগ্রামে ভুট্টার বাম্পার ফলন

কুড়িগ্রামে পরপর দু’বছর  ধানের উৎপাদন খরচ না ওঠায় এবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে  ভুট্টা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে দাম নিয়ে শংকিত কৃষক। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় পতিত জমিতে ভুট্টা চাষে ঝুকেছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। চরাঞ্চল সমূহের সরু পথ দিয়ে হাটলেই চোখে পড়ে মাঠের পর মাঠ লক-লকে বেড়ে উঠা ভুট্টার ক্ষেতে সোনালী ভুট্টা দানার থোর। এখানকার কৃষাণ-কৃষাণীদের কেউ শেষ মহূর্তে পরিচর্যা, আর কেউ বা ঘরে তোলার জন্য ভুট্টা সংগ্রহে ব্যস্ত।

ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণে এগিয়ে এসেছে কেয়ার বাংলাদেশের সহায়তায় বেসরকারী সংস্থা ইএসডিও প্রডিউস প্রকল্প। তারা চরাঞ্চলের পতিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য দরিদ্র পরিবারগুলোকে ভুট্টা চাষে আগ্রহী করে তুলছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ১শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ২হাজার ৪শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে।

প্রোডিউস প্রকল্পের সহায়তায় ধরলা তীরবর্তী চর সারডোব গ্রামে ০৪ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন ৩০ জন দরিদ্র ও হত দরিদ্র কৃষক। আয়বর্ধন মূলক কর্মসূচীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকগণ ইএসডিও-প্রোডিউস প্রকল্পের সহায়তায় এই কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কৃষক- রুমি, রতন, মকবুল, শাহজাহান এ প্রতিনিধিকে বলেন, যেহেতু তারা দুর্যোগ প্রবন এলাকার মানুষ বিভিন্ন রকম দুর্যোগের সাথে তারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেচে থাকে সেক্ষেত্রে এই ভুট্টা চাষ তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক বড় ভুমিকা রাখবে তারা আরো বলেন, ০৪ একর জমিতে তারা প্রায় ৩৫০ মন ভুট্টা পাবে।
বেসরকারী পাশাপাশি সরকারী পৃষ্টপোষকতার মাধ্যমে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের পতিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ভুট্টা চাষ করা গেলে অভাবী এ জনপদের অভাব অনেকাংশে ঘুচবে বলে মনে করছেন এখানকার কৃষকরা।