ধানের জোয়ারে ভাসছে পাটগ্রাম

NewImage
পাটগ্রাম উপজেলাসহ লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় এবার বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে কৃষকের ঘরে ঘরে বয়ে চলেছে আনন্দের জোয়ার। কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবছর হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদন অনেক বেশি হবে।
পাটগ্রাম ও লালমনিরহাট কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাটগ্রামে ৯ হাজার ৪০৯ হেক্টর, হাতীবান্ধায় ১১ হাজার ২৬১ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১২ হাজার ৫২২ হেক্টর, আদিতমারীতে ১০ হাজার ৫৮৬ হেক্টর ও সদর উপজেলায় ১১ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটগ্রামে ৮ হাজার ৮৮০ হেক্টর, হাতীবান্ধায় ১০ হাজার ৯শ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১২ হাজার ৯৯৫ হেক্টর, আদিতমারীতে ১১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর ও সদর উপজেলায় ১২ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। তবে ভূট্টা চাষের কারণে এবার পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় কৃষি বিভাগের বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৯০ হেক্টর জমিতে কম বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ হাজার ৬৮১ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে জেলায় ৫৫ হাজার ২৮২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও চাষ হয়েছে ৫৬ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমি। তারপরও জেলায় ৭৯১ হেক্টর জমিতে বেশি বোরো চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর আলম বলেন, ‘চলতি বছর প্রতি হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ৪.৫০ মেট্রিকটন, উপশী ৩.৮৪ মেট্রিকটন ও স্থানীয় জাতের ২.০৭ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও প্রতি হেক্টরে ৭-১০ মণ ধান বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।’
পাটগ্রামের বিভিন্ন গ্রামে সরজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় বোরো ক্ষেতে এবার সোনালী ধানের শীষ ঝিলিক দিচ্ছে। এ সময় পাটগ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন, কাজী আব্দুল হক, রশিদুল ইসলাম, লিটন রায় জানান, ‘গত বছরের তুলনায় এবছর বোরো ধানের বীজ, সার, কীটনাশক, ডিজেল ও বিদ্যুতের সরবরাহ সময় মতো পাওয়ায় বোরো ধানের আবাদ ভালোই হয়েছে। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। যদি প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটে তাহলে হেক্টর প্রতি ৭০-৮০ মণ ধান পাওয়া যাবে।’