১০ মাসে ১০ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ

চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১০ মাসে ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৪ শতাংশ। আশা করছি, বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।”
কৃষিকে চাঙা করতে এতদিন সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ দিত। এখন বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এগিয়ে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির কারণেই কৃষিঋণ বাড়ছে এবং এর প্রভাব চলতি বোরো ফসলেও পড়েছে বলে মনে করেন গভর্নর।
গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সব ব্যাংক মিলে ৯ হাজার ৬৫২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোকে ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংক ৮ হাজার ৫১০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের জন্য ৫ হাজার ২৯০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়।
অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ব্যাংকগুলো সবমিলিয়ে ১০ হাজার ২০০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে।
এ সময়ে সরকারি মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৬ হাজার ৬২৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ৩০টি বেসরকারি ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
ব্যাংকগুলোর বাইরে চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ৪৭৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের ১৭৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বর্গাচাষীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ঋণটি বিতরণ করেছে বেসরকারি ব্যাংক।
বছর তিনেক আগে সরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্যও কৃষিঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছর থেকে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের কমপক্ষে আড়াই শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আতিউর রহমান বলেন, কৃষিঋণ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে তদারকি চলছে। প্রকৃত কৃষকরা যাতে ঋণ পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে যে সব ব্যাংকের গ্রামে শাখা নেই সেসব ব্যাংক এনজিওগুলোর মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করে বলে জানান গভর্নর।