রিজার্ভ আবার ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

রেমিটেন্স বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা।

গভর্নর আতিউর রহমান সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মঙ্গলবার আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তির ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার যোগ হলে রিজার্ভ আরো বাড়বে।”
দেড় বছর ঝুলে থাকার পর সংস্কারের শর্ত মেনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে একশ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, “মূলত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বৃদ্ধির কারণেই রিজার্ভ সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা আশা করছি আগামীতে রিজার্ভ আরো বাড়বে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। সোমবার তা বেড়ে ১০ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ৯ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি।
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে ৭৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে।
২০১০-১১ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ।

গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের ৯০ কোটি ডলার আমদানি দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে নেমে অসে।
এরপর রেমিটেন্স বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ বেড়ে সোমবার ১০ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে রিজার্ভ চার বার ১১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছিল। কিন্তু আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পর তা কমে আসে।
ওই অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল প্রায় ৪২ শতাংশ।
গত অর্থবছরের রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করলেও চলতি অর্থবছরে বেশির ভাগ সময় রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে রিজার্ভ এক পর্যায়ে ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।
১১ এপ্রিল আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদ ৬৩ দশমিক ৯৯ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলারের (৯৮ দশমিক৭০ কোটি মার্কিন ডলার) ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের অর্থ তিন বছরের মধ্যে কয়েক ধাপে ছাড় করা হবে। যার প্রথম কিস্তি ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার মঙ্গলবার বাংলাদেশ পাবে।
লেনদেন ভারসাম্য নিয়ে সঙ্কটে থাকা বাংলাদেশ সরকার এক বছরের বেশি সময় ধরে আইএমএফের এই ঋণ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।