খরা ও লবন সহিষ্ণু ধান আবিস্কারে বাংলাদেশ সফল : কৃষিমন্ত্রী

নিউজ বিএনএ ডটকম, ঢাকা, ৮ এপ্রিল : কৃষিনির্ভর
বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে খরা ও লবণ সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবনে সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এই তথ্য জানান।

এসময় দেশের কৃষিখাতের আধুনিকায়ণে চীনের উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরেরও আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন,কৃষিখাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশে জৈব প্রযুক্তির প্রসার, পানি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন, পণ্য বিপণন, তথ্য বিনিময় এবং গবেষক আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে চীন সহায়তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশে নব নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন’র সম্মানে রাজধানির রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নবাগত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে মহাজোট সরকার বহুপক্ষীয় যোগাযোগ জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, চীনের সহায়তায় বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া দ্বীপের নিকটবর্তী এলাকায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

বাংলাদেশের সাথে চীনের কুনমিং পর্যন্ত সড়ক ও রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করা গেলে দু‘দেশের বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি এক্ষেত্রে নতুন নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের সহায়তা কামনা করেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বন্ধুপ্রতীম বাংলাদেশের সাথে চীনের ব্যবসা-বাণিজ্য দিন দিন বাড়ছে। ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য শতকরা ১৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

২০১০ সালে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি শতকরা ৯১ ভাগ এবং ২০১১ সালে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে এ প্রবৃদ্ধির পরিমাণ একশ‘ ভাগে উন্নীত করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাফর উল্লাহ, সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।