পলিথিনের বিকল্প এল:’পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাজারজাত সম্ভব’

তাঁর গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘প্রিপারেশন অ্যান্ড ক্যারাক্টারাইজেশন অব বায়োবেন্ড অব নেচারালি অকারিং পলিমার অ্যান্ড ওয়াটার সলিউবল পলিমার বাই ইউজিং রেডিয়েশন টেকনিকস’। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির এই গবেষণাকর্মের তত্ত্বাবধায়ক এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোবারক আহমদ খান সহ-তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ওয়াহিদুজ্জামান ১৯৫৯ সালে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার ডুমাইন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ কলেজ, এমসি কলেজ ও রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হন। ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ফেলোশিপ অর্জন করেন। তিনি অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে আটটি পাঠ্যপুস্তক রচনা করেছেন তিনি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর চারটি গবেষণাধর্মী প্রকাশনা রয়েছে। নিজের উদ্ভাবিত বিকল্প পলিব্যাগ নিয়ে বললেন দু’চার কথা :

এটা তৈরি করা প্রয়োজন হলো কেন?
প্রচলিত পলিথিনগুলো মাটির সঙ্গে মেশে না, যা পরিবেশের জন্য বিরাট হুমকিস্বরূপ। বিশ্বের কিছু দেশে এখনো পলিথিনের চল থাকলেও আমাদের সঙ্গে তার তুলনা চলবে না। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি, পলিথিন ব্যবহারের পরিমাণও বেশি। পরিমাণগত কারণেও এটা বিপর্যয় ডেকে আনবে।

আলাদা কোন দিক থেকে?
এ রকম ব্যাগ বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। একে পুরোপুরি প্রাকৃতিক করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে চেয়েছিলাম। সম্ভব আঁচ করতে পেরে তৈরিতে মন দিলাম। প্রচলিত পলিথিনে এক ধরনের অসম্পৃক্ত কার্বন থাকে, যা সম্পূর্ণ কেমিক্যাল। আমি পলি ইথিলিনের পরিবর্তে পলিভিনাইল অ্যালকোহল (পিভিএ) দিয়ে তৈরি করলাম। শ্বেতসার জাতীয় প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও পলিব্যাগ বানানো সম্ভব।

আপনার আবিষ্কার এখনো গবেষণাগারে, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কতটুকু?
আমার গবেষণা তৈরি করা পর্যন্তই সীমিত। আরো গবেষণা করছে আণবিক শক্তি কমিশন। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অবশ্যই বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা যাবে।

এর কোনো সীমাবদ্ধতা আছে?
এর স্থায়িত্ব এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে আরো কাজ করতে হবে।

বড় গুরুত্বের দিক কোনটি?
দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে এটা তৈরি করা গেছে।