বন্দরে দ্রুত পণ্য খালাসে গ্রিন চ্যানেল হচ্ছে

বন্দরে দ্রুত পণ্য খালাস করতে নতুন একটি পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। অথরাইজড ইকোনমিক অপারেট (এইও) নামে পরিচিত এ পদ্ধতিতে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই পণ্য খালাসের সুবিধা থাকবে। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে এ পদ্ধতি চালু হবে।

তবে সব ব্যবসায়ী এ সুবিধা পাবেন না। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমদানি ও রফতানি কর্মকাে র সম্পৃক্ত স্থানীয় যেসব ব্যবসায়ীর অতীত রেকর্ড ভালো, আইন-কানুন ও কমপ্লায়েন্স মেনে ব্যবসা করেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম নেই, শুধু তারাই এ সুবিধা পাবেন।

কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরে ওই সব প্রতিষ্ঠানের পণ্য খালাসের জন্য আলাদা স্থান থাকবে, যা গ্রিন চ্যানেল নামে পরিচিত। এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, মূলত সৎ ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। কাস্টমস বিভাগে সুশাসন নিশ্চিত করতে এটি আরেক ধাপ অগ্রগতি বলে জানান তিনি। এনবিআরের একটি সূত্র বলেছে, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে এটি চালু হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বন্দরেও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক্ক আইনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং ব্যবসার কার্যক্রম সহজীকরণ করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে এনবিআর। এ আইনের আওতায় অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর পদ্ধতি প্রবর্তনের কথা উল্লেখ আছে। ২০১৯ সালে প্রস্তাবিত শুল্ক্ক আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করেছে এনবিআর। আইনটি কার্যকর করার আগে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটের আওতায় সুবিধা পাবে, তা ঠিক করবে এনবিআর। এ জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন কীভাবে তা কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করে রাজস্ব বোর্ড।

এনবিআর সূত্র বলেছে, অথরাইজড ইকোনমিক অপারেট পদ্ধতির আওতায়, পণ্য খালাসসহ শুল্ক্ক-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। এ সুবিধা পেতে হলে বেশ কিছু শর্ত পালন করতে হবে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানকে। যেমন- সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বকেয়া থাকতে পারবে না। পূর্ববর্তী তিন বছরে শুল্ক্ক ফাঁকিসহ কোনো ধরনের অপরাধ থাকতে পারবে না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অতীত রেকর্ড ভালো থাকতে হবে। এ ছাড়া সংশ্নিষ্ট কোম্পানির বার্ষিক লেনদেন কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা থাকতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করলে ওই সব প্রতিষ্ঠান এইও ব্যবস্থার আওতায় গ্রিন চ্যানেলে ব্যবহারের অনুমতি পাবে।

এ পদ্ধতির আওতায় পণ্য দ্রুত খালাসের পাশাপাশি কাস্টম হাউসে অন্যান্য সেবা কার্যক্রমও সহজ করা হবে। পণ্য চালান বন্দরে আসার আগেই বিল অব অ্যান্ট্রি, দাখিলসহ শুল্ক্ক-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ থাকছে। শুল্ক্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের লক্ষ্যে ই-মেইল বা অনলাইন ব্যবহার, কম সময়ে শুল্ক্ক ফেরত দেওয়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে শুল্ক্ক-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা ইত্যাদি সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনবিআরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকাল জানান, ২০১৬ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন চুক্তি সই হওয়ার পর বাংলাদেশেসহ অনেক দেশে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেট পদ্ধতি চালুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশে এ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।