সফল ড্রাগন চাষী চৌগাছার এনামুল

যশোরের চৌগাছার এনামুল কবির ইসমাঈল ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ভাবতে ভাবতে একদিন নিজের স্মার্টফোনে সার্চ দিতে দিতে ইন্টারনেটে ড্রাগন ফল দেখে তার ভালো লাগে। আর এই ভালো লাগা থেকে তিনি উদ্বুদ্ধ হন ড্রাগন চাষে। শুরু করেন ড্রাগন চাষ। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ কৃষি ফার্ম থেক এক হাজার ৭শ’ চারা এনে পরীক্ষামূলক হিসেবে ২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করেন। ২০১৬ সালে যখন তার ড্রাগন বাগান থেকে কাক্সিক্ষত ফল লাভ হতে থাকে তখন এনামুল আরও আগ্রহী হয়ে বেশি পরিমাণ জমি ড্রাগন চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। ওই বছরেই আরও সাত বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান করেন। বর্তমানে উপজেলার বল্লভপুর বাঁওড়ের ধারে তার ৯ বিঘা ড্রাগন বাগান রয়েছে। এনামুল জানান, চলতি বছরে প্রথম দুই বিঘা জমি থেকে নয় লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন। ২০০০ সালে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড় এনামুল। লেখাপড়া শেষে ২০০৮ সালে চাকরি নেন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। ২০১৩ সালের কোনো একদিন কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা ভেঙে যায় তার। সুস্থ হয়ে থাই পেয়ারা, আপেল কুল ও বাউ কুলের বাগান করেন। পেয়ারা বাগান ছিল ২০ বিঘা। কুলের বাগান ৭ বিঘা। এসবের মধ্যেই তার মাথায় চিন্তা আসে নতুন কিছু করার। দুই বিঘা জমিতে প্রথম বছর সব মিলিয়ে খরচ হয় চার লাখ টাকা। দ্বিতীয় বছরে জমিতে সার-পানি ও পরিচর্যা বাবদ খরচ হয় ৮০ হাজার টাকা। দেড় বছরের মাথায় গাছে ফুল আসা শুরু হয়। ৩০-৩৫ দিনের মধ্যেই ফল বিক্রি করেন এবং প্রথমেই তিন লাখ টাকার ফল বিক্রি করেন তিনি। এনামুল প্রতি বিঘা ড্রাগন বাগানে ২শ’ কংক্রিটের পিলার তৈরি করে চার পাশে চারটি করে ড্রাগনের চারা রোপণ করেছেন। এনামুল জানিয়েছেন, অনুকূল পরিবেশ থাকলে আগামী মৌসুমে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করতে পারবেন।