৪ বছর আগেই চালু হচ্ছে মেট্টোরেল

রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্প মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। নির্ধারিত সময়ের চার বছর আগেই, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে রাজধানীবাসীর জন্য প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হবে, বলে জানিয়েছেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

সরকার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা মেট্টোরেল চালু হলে একদিকে যেমন যানজট থেকে মুক্তি মিলবে নগরবাসীর সেইসঙ্গে সাশ্রয় হবে সময় এবং অর্থের।

‘বাঁচবে সময় বাঁচবে তেল, জ্যাম কমাবে মেট্রোরেল’-এ স্লোগানে ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর সরকার এ প্রকল্প অনুমোদন করে। ২০১৬ সালের ২৬ জুন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমে এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার বছর আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সরকারি কোম্পানি ডিএমটিসিএল।

প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজন্সি (জাইকা)। বাকি পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে সরকারি কোষাগার থেকে।

২০১৯ সালের শেষ নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেল চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার মেট্রোরেল বাকি কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ যত এগিয়ে চলেছে ততই হাঁসফাঁস বাড়ছে নগরবাসীর। প্রকল্প এলাকার সড়কগুলোয় অসহনীয় যানজট নগরবাসীর মধ্যে সৃষ্টি করছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তবে খুব শিগগির-ই তাদের এ যন্ত্রণার অবসান হচ্ছে এমন সম্ভবনার কথাও জানেন অনেকেই। রোববার প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্পটে ঘুরে এ চিত্র চোখে পড়েছে।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায় প্রখর রোদেও থেমে নেই র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬-এর কাজ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রাত-দিন নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে বিরতিহীন কাজ চলছে। কোথাও পিলার তোলার জন্য মাটি খোঁড়া হচ্ছে। আবার কোথাও হ্যামার দিয়ে পাইপ বসানো হচ্ছে। উত্তরায় মেট্রোরেলের ডিপো তৈরির কাজ চলছে। তৈরি করা হচ্ছে ভায়াডাক্ট। এসব সড়কে যান চলাচল সীমীত করায় ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে মিরপুর ১২ থেকে ১০ নম্বর গোলচত্ত্বর হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত সড়কের অর্ধেকাংশ বন্ধ করে দিনরাত কাজ চলছে।

আগারগাঁও এলাকায় পাইলিংয়ের জন্য বসানো হয়েছে বিশাল আকৃতির ক্রেন। খননের সময় ওঠা মাটি ফেলা হচ্ছে উত্তরায় একটি ডাম্পিং সাইটে। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় ‘হার্ড ব্যারিয়ার’ ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য তার ওপর দেওয়া হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকারের এ প্রকল্প যাতে কোনো প্রকার বিতর্ক কিংবা বাধার মুখে না পড়ে সে জন্য নিরাপত্তার সবগুলো দিক বিবেচনায় রেখে এর কাজ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় এ প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের চার বছর আগেই। এ জন্য নিয়মমাফিক গতি বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এ প্রকল্প জনগণের জন্য চালু করা যাবে। দেশে কোনো মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে এটিকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রকল্প ডিজাইন অনুযায়ি উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল লাইনে ৭৭০টি স্প্যান থাকবে। পুরো পথে থাকবে ১৬টি স্টেশন। স্টেশনগুলো হলো উত্তরা উত্তর, মধ্য উত্তরা, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল।

আধুনিক এ রেলপথে নিয়মিত ১৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা থাকবে  এক হাজার ৬৯৬ জন। যার মধ্যে ৯৪২ জন বসে এবং ৭৫৪ জন দাঁড়িয়ে থাকতে যেতে পারবেন। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন মেট্রোরেল ৩৭ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছাবে। প্রতি চার মিনিট পরপর ট্রেন ছেড়ে  যাবে। উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে। এতে সময় এবং অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে নগরবাসীর।