তিস্তার চরে কৃষি বিপ্লব

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী লোকজন নদীভাঙনের শিকার হয়ে জমি ও বসতবাড়ি হারিয়ে পথে বসেছে। বাঁধের পাশে, রেলপথের ধারে ঝুপড়িঘর করে আশ্রয় নিয়ে ওরা জীবন কাটাচ্ছে। আবার অনেকেই বালুচরে আশ্রয় নিয়ে জীবন যুদ্ধে নেমেছে। তারা তিস্তা ও ধরলা নদীর বুকে জেগে উঠা ধু-ধু বালু চরে পিট পদ্ধতিতে ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।
কৃষি উৎপাদন ও ভূমিহীন কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নকে সামনে রেখে কাজ শুরু করে কৃষি অধিদফতর। আর শুরুতেই অনাবাদি ও পড়ে থাকা ধু-ধু বালুচরে পিট পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও শসা চাষে মিলেছে সফলতা।
সরেজমিন তিস্তা নদীর চর এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, একসময় তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলো জেগে ওঠা চরে মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও শসা চাষ করে আবারো স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এখন। তারা অনেকটা সফলতাও পেয়েছেন। এখন তাদের সংসারে আগের মতো অভাব-অনটন নেই। ফিরেছে সচ্ছলতা।
হাতীবান্ধা উপজেলার চর সির্ন্দুনা গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, তিস্তার বালুচরে পিট পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া ও লাউ চাষে সফলতা পেয়েছেন। প্রথমে পিট পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা ছিল না তার। কৃষি অফিসের পরার্মশ মতে, বালুর মধ্যে গভীর গর্ত করে অন্যস্থান থেকে কাদা মাটি নিয়ে এসে ওই কাদা মাটির সঙ্গে গোবর সার ও রাসায়নিক সার একসঙ্গে মিশিয়ে গর্তটি ভরাট করে ওই গর্তে বীজ রোপণ করা হয়। আর এটাকেই পিট পদ্ধতি বলে।
ওই এলাকার কৃষক সাফিয়ার রহমান জানান, তিন বছর আগে কৃষি অধিদফতরের পরামর্শে পিট পদ্ধতিতে তিস্তা চরে ফসল চাষাবাদের ধারণা পান। সে বছরেই সফলতা পাওয়ায় মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও শসা চাষে আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিঘা প্রতি কত টাকা খরচে এ ফসল চাষাবাদ করা সম্ভব সেটার সঠিক হিসাব দেয়া সম্ভব না হলেও সেখানে কিছুই উৎপাদন হয় না, সেই জমিতে বিশেষ পদ্ধতি কিছু উৎপাদন করা একদিকে যেমন লাভজনক অন্যদিকে এ উৎপাদন কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ওই মিষ্টি কুমড়া ও লাউ চাষাবাদে উপার্জিত অর্থ দিয়ে অনেক কৃষক ভুট্টা, পিঁয়াজ ও রসুনের চাষাবাদ করেছেন। এতে কৃষকদের সহায়তা করেছে কৃষি বিভাগ। হাতীবান্ধা কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিনি এবারে ৩ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছেন।
হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের নদী ভাঙনকবলিত হতদরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একসময়ের পতিত বালু চরে মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও শসা চাষের পিট প্রযুক্তির সফলতা এখন প্রমাণিত।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে এ পদ্ধতির আওতায় আনা গেলে কৃষি উৎপাদনসহ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিপ্লব ঘটবে।