মুরগি পালনে দুই নারীর সফলতা

শখ থেকে মুরগি পালনে সফল হয়েছেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার দুই নারী। এরা হলেন বন্দনা আর শংকরী রানী। সম্পর্কে আপন জা। শখ থেকে এখন তারা বাণিজ্যিকভাবে মুরগি পালন করছেন।

বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে উঠানের পাশে টিনের ঘরে বিশেষভাবে তৈরি করা খাঁচায় মুরগিগুলো আছে। সবগুলো মুরগি মোটামুটি একই সাইজ ও লালচে রঙের। মুরগির খাঁচায় রক্ষিত ডিমগুলো একজনে সংগ্রহ করছেন। অন্যজন খাঁচার নিচের ময়লা পরিষ্কার করছেন। প্রতিটি ঝুড়িতে ৩০টি করে ডিম সুসজ্জিত করে রাখেন। যা  দেখতে বেশ সুন্দর।

তারা জানান, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সংসার পরিচালনার সময় দুজনে মিলে অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করেন। এক সময় সিদ্ধান্ত নেন মুরগি পালনের। জমানো টাকা তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বামীদের দিয়ে তাদের স্বপ্নের কথা জানান। পরে তারা বাজার থেকে কিছু লেয়ার মুরগির বাচ্চা কিনে দেন। শুরু হয় তাদের স্বপ্ন পূরণের সংগ্রাম। ত্যাগ, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে তারা এখন সফল নারী। প্রতিবেশী ও তাদের স্বামীরা তাদের এখন ভিন্ন নজরে দেখছেন এমন কথাই তাদের। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এ কাজ শুরু করেছেন।

তারা আরো জানান, বর্তমানে তাদের ফার্মে মুরগির সংখ্যা ১ হাজার। একদিন বয়সের প্রতিটি লেয়ার মুরগির বাচ্চা ১২০ টাকা করে কিনে আনেন। ১৪০ দিন পালনের পর ওইগুলো ডিম দেওয়া শুরু করে। এক নাগাড়ে ১৮ মাস পর্যন্ত ডিম পাওয়া যায়। তারা বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন মুরগিগুলো ৮শ ডিম দেয়। ডিম কুড়ানো বেশ মজা এমন কথা বন্দনা রানীর।

পাইকাররা বাড়িতে এসে প্রতিশ্রুত ডিম ৬২০ টাকা দরে কিনে  নেয়। যা থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকার মতো পান। তিন বেলা ১শ কেজি খাবার দিতে হয়। যাতে ব্যয় হয় ৩ হাজার ৫শ টাকা। এতে করে প্রতিদিন তাদের লাভের পরিমাণ ১ হাজার ৫শ টাকা। মাসিক লাভের পরিমাণ ৪৫ হাজার টাকার মতো। ১৮ মাস ডিম দেওয়ার পর মুরগিগুলো কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২শ টাকা করে বাজারে বিক্রি করে দেন। মুরগির ময়লাগুলো আবার মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পুরুষরাও সময় সুযোগ পেলে তাদের কাজে সহযোগিতা করেন বলে জানান। এ খাতের অর্জিত আয় ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করার কাজে ব্যয় করবেন বলে জানান তারা।