মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উন্নয়ন ভাবনা

প্রত্যেক বছর বিজয় দিবসে কিছু লোককে প্রায়ই বলতে শোনা যায়, দেশ স্বাধীন করে আমরা কী পেলাম? আবার কারো কারো কণ্ঠে হতাশা এবং ক্ষোভের কথা শোনা যায়। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের এসব কথা বলতে শোনা যায় এবং উচ্চারিত হয়, কী জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলাম? এই বাংলাদেশের জন্যই কি আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম? ত্রিশ লাখ লোক শহীদ হয়েছিল? এরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ। এটা সত্য কোনো দেশ স্বাধীন করার জন্য এত লোক প্রাণ দেয়নি। পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন অগণিত মানুষ। দেশকে শত্রু মুক্ত করতে অল্প কিছু লোক বাদে সবাই ভ‚মিকা রেখেছিল, দেশের জন্য সরাসরি যুদ্ধ করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সংখ্যাও অনেক। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সবাই তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য। অপরদিকে মুুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বিপক্ষে ছিল, তারা তো এই স্বাধীনতা অর্জনকে ভালো কাজ বলে মনেই করে না। অনেক লোক এখনো বলে, পাকিস্তানি আমল ভালো ছিল, ব্রিটিশ আমল তার চেয়ে ভালো ছিল। আমি তাদের বলি, তার চেয়ে বলুন শায়েস্তা খাঁর আমল ছিল সবচেয়ে ভালো, টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তখনো এ বাংলায় প্রচুর লোক না খেয়ে থাকত। উন্নত চিকিৎসা দূরের কথা, ম্যালেরিয়া হলে একটা প্যারাসিটামল জাতীয় বড়ি কেনারও সামর্থ্য অনেকের ছিল না।

মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের জন্য মানুষকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। স্বপ্নের সোনার বাংলা ধারণাটি সম্পূর্ণ বিমূর্ত না হলেও অনেকের কাছে এখনো তা অস্পষ্ট। কেউ যদি মনে করেন, জাতির জনকের সোনার বাংলা মানে সুইজারল্যান্ডের মতো ধনী এবং মধ্যপ্রাচ্যের মতো অনেক সম্পদ মজুদ সমৃদ্ধ দেশ- তাহলে সে ধারণা ভুল। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস, ভ‚গোল ও বিশ্ব অর্থনীতি সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট জ্ঞান ছিল। স্বাধীনতার পর দেশ রাতারাতি উন্নত তথা ধনী দেশে পরিণত হবে- তিনিও এমনটি চিন্তা করতেন না। উন্নত দেশ হওয়ার জন্য যথাযথ শর্তগুলোর উপস্থিতি এবং ব্যবহারের বিষয়ে অনেক দ্বিমত রয়েছে। ১৯৭১ সালে যদি পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা না হতো তাহলে আমাদের পাকিস্তানের অংশই থাকতে হতো। কিন্তু সেই পাকিস্তানের এখন কী অবস্থা? সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ সব সূচকে পাকিস্তান আমাদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অর্জন আমাদের তুলনায় অর্ধেকও নয়। স্বাধীন না হয়ে আমরা যদি পূর্ব পাকিস্তান হয়েই থাকতাম তাহলে আমাদের অবস্থা ঠিক একই রকম হতো। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান কেবল পাকিস্তান নয়, ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় আর্থ-সামাজিক অনেক বিবেচনাতেই এগিয়ে আছে। স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের প্রথম স্বপ্ন, পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মালিক হওয়া, তা সার্থক হয়েছে। এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে মুক্তিযুদ্ধের বড় প্রাপ্তি কী? তাহলে বলব ‘আমরা পাকিস্তান নামক একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের অংশ নই’- এটিই বড় পাওয়া। পাকিস্তানের অর্ধেক অংশ এখন তালেবানদের দখলে। কেবল তাই নয়, আমেরিকানদের অন্যতম ঘাঁটি পাকিস্তান, সেখানে আকাশ থেকে অনবরত বোমা ও ড্রোন হামলা হচ্ছে এবং জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। এসব দিক থেকে পরিত্রাণ পাওয়া তথা পাকিস্তান নামক দুষ্ট-ভ্রান্ত রাষ্ট্রের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া- এটিই স্বাধীনতার সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপরও বলা হয়, যেসব ক্ষেত্রে আমাদের আরো উন্নতি করা এবং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল- আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। কিন্তু এর পেছনেও কারণ রয়েছে। ১৯৭১ সালে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। যে চেতনাগুলো ১৯৭২-এর সংবিধানের স্তম্ভ হিসেবে সন্নিবেশিত। কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আর এই হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের যাত্রার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ পুনরায় একটি পূর্ব পাকিস্তান কায়েম করা হয়; শুধু বাংলাদেশের নামটি পরিবর্তন করার সাহস দেখায়নি। বাংলাদেশ নামেই শুরু হয় পাকিস্তানি কার্যক্রম, পাকিস্তানের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনার যা কিছু ছিল, তার সবকিছুই আবার ফিরে আসে। এতে স্বাধীনতার চেতনা বাধাগ্রস্ত হয়। যে স্বপ্ন, চেতনা, ধ্যান-ধারণা নিয়ে মানুষ দেশ স্বাধীন করেছিল তার বিপরীতধর্মী একটি শক্তি বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে। তারা ক্ষমতায় বসে প্রথমেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে।

বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য কতগুলো অর্থনৈতিক টার্গেট ঘোষণা করা হয়েছে। তা হলো আমরা ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হবো। ধনী দেশ হওয়ার হিসাব মূলত বিশ্বব্যাংকের মাথাপিছু আয়ের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। আমাদের মাথাপিছু আয় যদি চার হাজার বা সাড়ে চার হাজার ডলারে উন্নীত হয়, তাহলে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকব না, অর্থাৎ উন্নত দেশের দিকে ধাবিত হবো। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই রকম আয়সমৃদ্ধ দেশ পৃথিবীতে এক সময় অনেক ছিল। বর্তমানে যুদ্ধরত দেশ সিরিয়া, মিসর, লেবানন, ইরাক, লিবিয়া মাথাপিছু আয়ের হিসাবে অনেক আগেই উন্নত। কিন্তু সেই রাষ্ট্রগুলো এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, কেবলমাত্র মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা মানুষের পোশাক-আশাক, রাস্তাঘাট, বাড়ি-গাড়ি অথবা খাওয়া-দাওয়া অর্থাৎ ভোগের আধিক্যভিত্তিক জীবনযাত্রার উন্নয়ন, যা টেকসই উন্নয়ন নয়, সাম্প্রতিককালে তা প্রমাণিত হয়েছে। মানবিক উন্নয়নের সামাজিক সূচক আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছিল। সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, ধর্মীয় হানাহানি এবং বিভেদ থাকবে না- মুক্তিযুদ্ধের এসব চেতনা পরবর্তীকালে নাশ হয়ে যায়। ডলারের হিসাবে দরিদ্র হলেও আমরা মনোভাবের দিক থেকে চল্লিশের দশকেও এখনকার চেয়ে ধনী ছিলাম। এদেশে শিয়া এবং সুন্নিদের মধ্যে কোনো বিভেদ ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শিয়া এবং সুি ন্নদের মধ্যে হানাহানি, সহিংসতা দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, ইরাকসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিয়া এবং সুন্নিদের মধ্যে হানাহানি, সহিংসতা আছে। বাংলাদেশে সুন্নিদের সংখ্যা বেশি এবং শিয়াদের সংখ্যা কম। তারপরও কখনো শিয়া-সুন্নিদের মধ্যে হানাহানি দেখা যায়নি। এদেশে তাজিয়া মিছিল এবং শিয়া মসজিদে বোমা নিক্ষেপ ও গুলি করে মুয়াজ্জিনকে হত্যা করা অতি সাম্প্রদায়িক বিষয়। অর্থাৎ একদিকে আমরা ডলারের হিসাবে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হলাম, অন্যদিকে ধর্মীয় মৌলবাদী চিন্তাচেতনা সম্প্রসারিত হলো- তাহলে আমাদের অবস্থাও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার মতোই হবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে দূরে সরে গিয়ে অসহিষ্ণু জাতিতে পরিণত হয়ে হানাহানিতে লিপ্ত হলে আমাদের প্রকৃত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না। এ জন্য আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মানব সম্পদের ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন করতে হবে। মানুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে এমনভাবে শিক্ষিত করে তুলতে হবে যাতে তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। এমনটিই হলো প্রকৃত মানবসম্পদ উন্নয়ন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো মানবিক সম্পদের উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে। পড়ালেখা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানুষের মাঝে যদি সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি যেমন- শিয়া, সুন্নি, ইয়াজিদি, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ উগ্র ধর্মীয় মতাদর্শ এবং বিভেদ থাকে তাহলে আমরা আবার বিভ্রান্তিতে পড়ব। অর্থাৎ আমাদের উন্নয়ন টেকসই হবে না।

আমাদের দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে চলবে। আর এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ চালাতে গিয়ে কেবল আওয়ামী লীগকেই সব সময় ক্ষমতায় থাকতে হবে- আমি তা বিশ্বাস করি না। যে কোনো একটি দল সব সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবে কখনো বিরোধী দল হবে না- বিষয়টি এমনো নয়। এর মানে হলো যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে, তখনই কেবল দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় চলবে আর অপর কোনো দল ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তন করবে- তা হতে দেয়া যায় না। অর্থাৎ আমাদের ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দল যে হোক না কেন তারা হবে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আজীবন ক্ষমতায় থাকবে না। অন্য দলও ক্ষমতায় আসবে। আমাদের মূল সমস্যা হলো- দেশের অন্যান্য উন্নয়নের সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকা খুব জরুরি। এতে অর্থনৈতিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক থাকবে। অর্থাৎ সামাজিক, শিক্ষা, সামরিকসহ নানা খাতের নীতি ও পরিচালনা নিয়ে ধনাত্মক সমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়নি। একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে, আওয়ামী লীগ সরকার যত দিন ক্ষমতায় থাকবে কেবল তত দিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকবে। কোনো কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে পাকিস্তানি চেতনা ফিরে আসবে। নির্বাচন এলেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আলোচনা, টকশোসহ নানা কর্মসূচি থেকে বুদ্ধিজীবীদেরও বেরিয়ে আসতে হবে। এর পরিবর্তে বুদ্ধিজীবীদের মূল এজেন্ডা যেমন- রাজনৈতিক দল, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং বিচার বিভাগের দুর্বলতা দূরীকরণ এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করা, পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করার জন্য কি ফর্মুলা নেয়া যেতে পারে, এসবে মনোযোগ দিতে হবে। তাহলে জাতি এগিয়ে যাবে।

বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আমার বক্তব্য হলো, অর্থনৈতিকভাবে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, শত চেষ্টা করলেও তা প্রতিহত করা যাবে না। আমাদের অর্থনৈতিক সূচক এমন সক্রিয়, তাতে কেউ না চাইলেও দেশ এগিয়ে যাবে। সমস্যা হলো, দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সে তুলনায় আমরা যদি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকি, তাহলে এক পর্যায়ে দেশ মুখ থুবড়ে পড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে খুব চিন্তা করে কাজ করতে হবে। যাতে উভয়ের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য থাকে। কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই আমাদের কাম্য হতে পারে না। যদি সামাজিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একতালে অগ্রসর হয় তাহলে আমরা ২০৪১ সালের আগেই জাতির জনকের স্বপ্ন- সুখী, সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারব এবং সেটাই কেবল টেকসই হবে, কেবল মাথাপিছু ডলারের হিসাবে উন্নয়ন টেকসই হবে না।