যেখানে নতুন গ্যাস সংযোগে সরকারের অগ্রাধিকার

সরকার নির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ইভিসি মিটারিং সিস্টেম স্থাপনের কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিশ্রিত গ্যাসের মূল্যমান পর্যালোচনা করে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য যৌক্তিক হারে নির্ধারণের কার্যক্রম গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্প্রতি এলএনজি আমদানি পরবর্তীতে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহের কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভাটি হয় পেট্রোবাংলার সম্মেলন কক্ষে।
সভায় জ্বালানি উপদেষ্টা বলেছেন, এলএনজির ব্যবহার শুরু হওয়ার পর যেন কোনো ধরনের প্রাইস শক সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সরকার খুবই সচেতন। তিনি আরো জানান, গ্যাসের সব ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এনার্জি দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে চাহিদা ও সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আইটি সেক্টরের পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে। তিনি আরো জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে গ্যাস সংযোগ পেতে হলে সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট শিল্পাঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা গ্যাস সঠিকভাবে পরিমাপের জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে ইভিসি মিটার স্থাপনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জ্বালানি সচিব সভায় বলেছেন, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ বাড়ানোর জন্য অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পাদন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশীয় কোম্পানি বাপেক্স একটি রূপকল্প ঘোষণা করে তার বাস্তবায়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রূপকল্পের আওতায় ১০৮টি কূপের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে ২০১৮ সালের মধ্যেই ২৮টি কূপের কাজ সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, সমুদ্রাঞ্চলে ইতোমধ্যে ৩টি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি ৪টি ব্লকে অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে। তবে এসব কূপ থেকে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার জন্য আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আরো বলেছেন, দেশের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি থাকার ফলে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য এলএনজি আমদানির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তির আওতায় একটি কোম্পানি থেকে ২০১৮ সালে এপ্রিল নাগাদ ৫০০ এমএমসিএফডি আর আরো একটি কোম্পানি থেকে একই বছরের অক্টোবরে ৫০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি টার্মিনালের কমিশনিং সম্পন্ন করবে। তিনি আরো জানান, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার কার্যক্রম চলছে।