১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশি পরিমাণের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে। এতে গত আগস্ট মাসে প্রায় ১৪২ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলো আহরণ করেছে, যা বিগত ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৬ সালের জুন মাসে ১৪৬ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে প্রবাসী আয়ে ভাটা চলছে। গত অর্থবছরেও সাড়ে ১৪ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় কমায় উদ্বিগ্ন সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যম ব্যবহার করে হুন্ডি প্রতিরোধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই একটা ইতিবাচক ফল পাওয়া গেল আগস্ট মাসে। যদিও বিশেষজ্ঞরা একটি মাসের হিসাব দিয়ে এখনই চিত্র পাল্টেছে, সে কথা বলতে নারাজ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে দ্বিতীয় মাস আগস্টে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৪১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা, গত অর্থবছরের একই মাসে যা ছিল ১১৮ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ। চলতি  অর্থবছরে দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৩ কোটি ডলার। আগের অর্থ বছরের দুই মাসে আসে ২১৯ কোটি ডলার। এই হিসাবে রেমিট্যান্স বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ দেড় হাজার কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। এরপর প্রতিবছরই রেমিট্যান্স কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই শতাংশ কমে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে তা সাড়ে ১৪ শতাংশ কমে আসে ১ হাজার ২৭৭ কোটি ডলার। রেমিট্যান্সের উত্স দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দা এবং মোবাইল ব্যাংকিংসহ অন্যান্য মাধ্যমে হুন্ডি প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈধ পথে দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্স কম আসছে বলে সরেজমিনে তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসেও বরাবরের মতো সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে এনেছে ইসলামী ব্যাংক। এককভাবে ব্যাংকটির মাধ্যমে ৩০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে। আর তৃতীয় সর্বাধিক প্রায় ১১ কোটি ডলার এনেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে চতুর্থ স্থানে রয়েছে জনতা ব্যাংক। আগস্ট মাসের মোট প্রবাসী আয়ের মধ্যে বেসরকারি ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ডলার, আর বিদেশি মালিকানাধীন ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার।