চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিষমুক্ত আম রফতানি হচ্ছে যুক্তরাজ্যে

মনোয়ার হোসেন জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উত্পাদিত রাসায়নিক বিষমুক্ত আম বাণিজ্যিকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যুক্তরাজ্যে রফতানি শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে তিন টন আমের প্রথম চালান পাঠানো হয়।
জানা গেছে, গত দু’বছর প্রায় ১৮টি জাতের আমের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সফলতা পান চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র্রের বিজ্ঞানীরা। তারপর তা আমচাষিদের জন্য বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফ্রুট ব্যাগিংয়ের ফলে কোনো প্রকার রাসায়নিক ছাড়াই রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণমুক্ত আম উত্পাদনের পর তা ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন জানান, সাধারণত একটি গাছে আম আসার পর কয়েক ধাপে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করা হয়, যা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। এসব ব্যবহারে পরিচর্যার খরচও বেড়ে যায়। কিন্তু একটি ফ্রুট ব্যাগের দাম মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা। একটি ব্যাগ ঠিকঠাকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দুই থেকে তিনটি আম মৌসুমে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই এই প্রযুক্তি খুবই সাশ্রয়ী। এছাড়াও মানসম্পন্ন নিরাপদ, শতভাগ রোগ ও পোকা-মাকড়মুক্ত আম উত্পাদনে সহায়ক এটি। ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে রাসায়নিক কীটনাশক, কার্বাইড ও ফরমালিনের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বিদেশের বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
তিনি আরও জানান, মেসার্স মরিসন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সোনারগাঁও ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স জিন্নাহ এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ বছর পর্যায়ক্রমে এই জেলা থেকে মোট দুই হাজার টন আম যুক্তরাজ্যের বাজারে রফতানি করা হবে।
আম রফতানি উপলক্ষে গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গবেষণা কেন্দ্রটির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হামিম রেজার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাজদার রহমান ও আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিনসহ জেলার আম ব্যবসায়ীরা।