আগস্টে রপ্তানি আয় ২৭০ কোটি ডলার

চলতি বছরের আগস্টে দেশে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৭০ কোটি ডলার। এছাড়া রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ শতাংশে। গতকাল সচিবালয়ে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রম নিরাপত্তার বিষয়ে গঠিত ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি’র প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বৈঠকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি’র নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিম মরিয়ার্টি। এছাড়া সংস্থাটির সিনিয়র উপদেষ্টা মারা এম বার, বাংলাদেশ কার্যালয়ের সিনিয়র উপদেষ্টা আয়ান স্পাউলডিং ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বছরের শুরুতে দেশে তথাকথিত আন্দোলনের নামে ৯২ দিন যে হত্যাযজ্ঞ, নাশকতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চলছিল তখন বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার কমে গিয়েছিল। এখন আবার তাদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। কারণ এখন দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সব পরিস্থিতি ভালো।

তিনি তৈরি পোশাক খাতের প্রসঙ্গে বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর আড়াই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে আর কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এখন অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় ভালো আছে। এটা এখন আন্তর্জাতিক বিশ্বে স্বীকৃত।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্স এ পর্যন্ত বাংলাদেশের পোশাক খাতের ৩ হাজার ২১টি কারখানা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৫টি তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ৩২টি কারখানাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারণ আমরা ভবিষ্যতে আর কোন রানা প্লাজা দেখতে চাই না। বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার হার ২ শতাংশের বেশি, বাংলাদেশে এটা ২ শতাংশের কম।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্সর সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আমরা চাই, তারা তাদের নিয়মের মধ্যে থেকেই কাজ করুক। অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের সম্পর্ক খুব ভালো। তারা বিভিন্নভাবে এ শিল্পকে সাহায্য করছে। তবে অ্যাকোর্ড নিয়ে মাঝে কিছু কথা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের পোশাক কারখানা পরিদর্শন করায় এটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে শ্রমিকের স্বার্থ ও নিরাপত্তা, অগি্নকা- ও ভবনের নিরাপত্তার বিষয়ে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আবারও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আমরা যথেষ্ট আশাবাদী। না পাওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে যে ১৬টি শর্ত দেয়া হয়েছিল, আমরা এর সবকটি পূরণ করেছি। এর বাইরে বা এর বেশি আমাদের আর পূরণ করার কিছু নাই।

জিএসপি পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআরের একটি প্রতিনিধিদল খুব শীঘ্রই ঢাকা আসছে। এরপর আমাদের তিন সচিবের (বাণিজ্য, শ্রম ও পররাষ্ট্র সচিব) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে যাবে। এছাড়া নভেম্বরে টিকফা সংক্রান্ত বৈঠক হবে। সেখানেও এটি নিয়ে আলোচনা হবে’ বলে জানান মন্ত্রী।

ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন করার অনুমতি দেয়ার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইপিজেডে আমরা শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করেছি। শ্রমিক, মালিক ও সরকার তিনটি পক্ষই এতে খুশি। এগুলো অনেকটা ট্রেড ইউনিয়নের মতোই। তবে সরাসরি ট্রেড ইউনিয়ন এখানে হবে না। এটা কারো কথায় বা নির্দেশেও করা সম্ভব নয়। কারণ ইপিজেডের শ্রমিকরা ভালো বেতন ও অন্য সুবিধাদি পাচ্ছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইপিজেডের বাইরের কারখানাগুলো ৩০ শতাংশ শ্রমিক হলেই ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারে। তবে তারা নিজেদের মধ্যেই নেতা বানাতে চায়। বহিরাগত নেতা তারা চান না। বহিরাগত নেতাদের কাছেও ট্রেড ইউনিয়ন এক ধরনের ব্যবসা।

জিম মরিয়ার্টি বলেন, পরিদর্শনকালে আমরা দুটি কারখানায় ত্রুটি পেয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশ সরকার ও আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে।