‘মাছের রফতানি আয় ৪৭০০ কোটি টাকা’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তার উপাদান শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন নয়। বরং ভোক্তার কাছে মানসম্পন্ন খাদ্যপ্রাপ্তি এবং নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিতকরণ উপাদানগুলোও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হলে সরকারের ভিশন অর্জন হবে না। তাই এ মেয়াদে এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। বিদায়ী অর্থবছরে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ’১৫ উদযাপনের অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের চিংড়ি সেক্টরের উন্নয়নে কোড অব কন্ডাক্ট (আচরণবিধি) প্রবর্তন উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিস ফাউন্ডেশন-বিএসএফএফ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আরিফ আজাদের সভাপতিত্বে বিশ্বাস বক্তব্য দেন রফতনি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু, ওয়ার্ল্ড ফিস কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রেইগ মেইজনার, বিএসএফএফের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক, ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা এবং মৎস্য অধিদফতরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিত্য রঞ্জন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএফএফ পরিচালক সদস্য ড. মাহমুদুল করিম।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্ত্বেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮৩ হাজার ৫২৪ মে. টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। রফতানিকৃত মাছ ও চিংড়ির সিংহভাগই এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ থেকে। এটি সম্ভব হয়েছে মৎস্যচাষ অনুশীলন বিষয়ে চাষি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, মৎস্য মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগারসমূহের আধুনিকায়ন, এনআরসিপি বাস্তবায়ন ও ডাটাবেইজ তৈরি কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে।
মন্ত্রী বলেন, চিংড়ি শিল্পের উন্নয়নে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি এ আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এ শিল্পের বিকাশ আরো ত্বরান্বিত হবে। এজন্য হ্যাচারি মালিক, চিংড়ি চাষি, খাদ্য উৎপাদনকারী, আড়তদার, ডিপো, বরফকল মালিক, মৎস্য আহরণে নিয়োজিত নৌকা ও ট্রলার, পরিবহনকারী, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মালিক ও মৎস্য চিংড়ি চাষে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী ফিডমিল মালিকদের উদ্দেশে বলেন, কোয়ালিটিসম্পন্ন ফিড তৈরি করতে হবে। তা না হলে বিপদ হবে। কারণ বিশ্বে মাছের অনেক চাহিদা রয়েছে। মাছে ৬০ শতাংশ আমিষ পূরণ করে। খামারিদের জন্য ফিডমিলের খাদ্য শুল্কমুক্ত করা হলেও মালিকরা ফিডের দাম কমায়নি।